প্রগতি ত্রিপুরা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫। সরকারি হাসপাতাল থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সাধারণ মানুষের হাতে তোলে দিয়ে কতিপয় মেডিকেল অফিসাররা রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সহ রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে বিষয়টি আসতেই সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অফিসার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ অব্দি সংবাদ প্রতিনিধিদের প্রচেষ্টায় দপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের শুরুতেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় এবং তদন্তকারী অফিসাররা ঘটনার সত্যতা স্বীকারও করেছেন সংবাদ প্রতিনিধিদের কাছে। জঘন্য এই ঘটনাটি ঘটেছে কৈলাসহরের জলাই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। উল্লেখ্য, কৈলাসহরের গৌরনগর ব্লকের অধীনস্হ জলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের চার নং ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র।
জলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধারণ মানুষেরা অভিযোগ করেন যে, বিগত কিছু দিন ধরে জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রেসার, ক্যালসিয়াম এবং প্যারাসিটামল টেবলেট বিলি করা হয়েছে।
গ্রামের সাধারণ মানুষেরা মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে যাবার পর গ্রামবাসীদের সন্দেহ জাগলে তখন নজরে আসে ঔষধ গুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ।
জলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের চার নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা সেন্টু মাহিষ্য দাস জানান যে, উনার মা বীনা মাহিষ্য দাসের বয়স পঁচানব্বই বছর।
বীনা দেবী জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে প্রেসারের ঔষধ এনে খাবার পর উনি অসুস্থ হয়ে যাবার পর দেখতে পান প্রেসারের ঔষধ গুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ।
সাথে সাথেই গ্রামের অন্যদের বলার পর সবাই যার যার বাড়িতে থাকা ঔষধ গুলো খতিয়ে দেখেন যে, ঔষধ গুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ।
গ্রামবাসীরা আরও গুরুতর অভিযোগ করেন যে, জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমিউনিটি হেলথ অফিসারকে জানানোর পর উনি টেবলেটের গাঁয়ে তারিখ লিখার জায়গাটি কেটে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো বিলি করেছে।
গ্রামবাসীরা মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো জলাই উপ কেন্দ্রে নিয়ে যাবার পর কমিউনিটি হেলথ অফিসার জানান যে, এটা কিভাবে হলো? এই কাজ তো ঠিক হয়নি, এসব বলে নিজেকে সেইভ করে নেন।
শুধুমাত্র মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধই নয়, আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যে, জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হিমোগ্লোবিন টেস্ট করার কিট গুলোও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে রয়েছে।
উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যে বা যাহারা হিমোগ্লোবিন টেস্ট করিয়েছিলেন তাদেরকে মেয়াদ উত্তীর্ণ কিট দিয়েই টেস্ট করানো হয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এসব ব্যাপারে কনিকা মেমোরিয়াল প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার দেবাশীষ দেববর্মাকে স্থানীয় সংবাদ প্রতিনিধিরা জিজ্ঞেস করলে উনি এব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে মেডিকেল অফিসার দেবাশীষ দেববর্মার নির্দেশে চিকিৎসক সপ্তর্ষি চক্রবর্তীর নেতৃত্বে তিনজনের এক তদন্তকারী দল জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে তদন্ত শুরু করেন।
তদন্ত করতে এসে জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ কিট পাওয়া গেছে বলেও স্বীকার করেছেন চিকিৎসক সপ্তর্ষি চক্রবর্তী।
এছাড়াও উনি জানান যে, তদন্ত করার সময় জলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধারণ মানুষেরা এসে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সহ জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
এখন দেখার বিষয় সংশ্লিষ্ট উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমিউনিটি হেলথ অফিসারের বিরুদ্ধে এতবড় গুরুতর অভিযোগ প্রমান হবার পর স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা কি পদক্ষেপ গ্রহন করেন।








