অনলাইন ডেস্ক, ২৫ জুলাই, ২০২৫: গোবিন্দ বল্লভ পন্থ আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালসম্প্রতি এক বিরল ও জটিল মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত রোগীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে রাজের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আস্থা স্থাপনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছে।
প্রাথমিকভাবে রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক রোগীর পরিবার শেষপর্যন্ত জিবিপি হাসপাতালের উপর ভরসা রেখেছিল এবংতার প্রাণও রক্ষা পায়। এই ঘটনা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।২৮ বছর বয়সী এক তরুণী মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ নিয়ে ১৫ জুলাই ২০২৫ জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি হন।
জিবিপি হাসপাতালের নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ডাঃ আবির লাল নাথ রোগীর পরিবারকে জানান যে, রোগীর জীবন বাঁচাতে ডিজিটাল সাবট্রাকশন আজিওগ্রাফি (DSA) এবা কয়েলিং অত্যাবশ্যক। কিন্তু রোগীর পরিবার জিবিপি হাসপাতালের উপর সম্পূর্ণরূপে আস্থা রাখতে পারেননি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে যান।
সেখানেও ভেলোরের চিকিৎসকরা জিবিপি হাসপাতালের মতোই ডিজিটাল সাবট্রাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (DSA) এর একই চিকিৎসার পরামর্শ দেন। এরপর ভেলোর থেকে ফিরে এসে রোগীর পরিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহারদ্বারস্থ হন এবং একটি উন্নত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রেষণর করার জন্য অনুরোধ করেন।
এই সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা রোগীর পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে, জিবিপি হাসপাতালেই এই ধরনের চিকিৎসা হয় এবং তাদের রাজ্যের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। রোগীর তৃতীয়বার রক্তক্ষরণ শুরু হলে, দ্রুত ডিজিটাল সাবট্রাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (DSA) এবং কয়েলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০ জুলাই ২০২৫ রোগীনি জিবিপি হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি হন। এই কঠিন মুহূর্তে ডাঃ আবির লাল নাথ ঐ তরুণীর পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যেআয়ুষ্মান ভারত কার্ডেরমাধ্যমে সম্পূর্ণ চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হবে। এটি বহিরাজ্যে বেসরকারি হাসপাতালে করতে প্রায় দশলক্ষ টাকা খরচ হয়।
আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতাল নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ডাঃ আবির লাল নাঘ এর নেতৃত্বে ডাঃ সুরজিৎ পাল, ডাঃ মনিময় দেববর্মাও সিস্টার ইনচার্জ ছিলেন সেবিকা দত্ত এবং অন্যান্য স্টাফ নার্স ছিলেন প্রাণকৃষ্ণ দেব, তিতিক্ষা মজুমদার, সঞ্জয় ঘোষ, মানস দত্ত, দেবব্রত দেবনাথ সহ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ২৩ জুলাই ২০২৫ অ্যানিউরিজমের কয়েলিং সম্পন্ন করেন।
ব্রেনের ভিতরে বিশাল আনিউরিজম দেখে সকলেই বিচলিত হলেও, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই জটিল প্রক্রিয়াটি সফল হয়। চিকিৎসা শেষে ২৮ বছর বয়সী তরুণী স্থিতিশীল হলে, ডাঃ নাথ রোগীর পরিবার এবং হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এই তরুণীর মা ও দুই বোন ডাঃ নাথ এর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ শঙ্কর চক্রবর্তী এবং স্বাস্থ্য অধিকর্তী প্রফেসর (ডাঃ) তপন মজুমদার ও স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যেকে এই সাফল্যের খবর জানানো হয়। এটি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং চিকিৎসকদের দক্ষতার উপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক নির্দেশনা এবং বিশ্বাস থাকলে রাজ্যের মধ্যেই সর্ব্বোচ্চ মানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব। জিবিপি হাসপাতাল এই সাফল্যের মাধ্যমে আবারও নিজেদের সক্ষমতা এবং রাজ্যের মানুষের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরণ। এই ঘটনা কেবল একটি সফল চিকিৎসার গল্প নয়, এটিআস্থা, ধৈর্য এবং নিরন্তর লড়াইয়েরএক মর্মস্পর্শী কাহিনী।
জিবিপি হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগ ত্রিপুরার মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে তাদের উপর বিশ্বাস রাখার জন্য। নিউরোইন্টারভেনশনকে ত্রিপুরায় আরও উন্নত করার জন্য এখনও অনেক পথ বাকি, কিন্তু এই তরুণীর জীবন বাঁচাতে পেরে এই লড়াই সার্থক হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী মনিকা এখন একটি নতুন জীবন নিয়ে বেঁচে থাকবে-আশা, বিশ্বাস এবং ভালোবাসায় ভরা এক নতুন জীবন। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।








