জনজাতিদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে একশ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করতে হবে: সমবায় মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২৪ জুন, ২০২৫: জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি অধিকারিকদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জনজাতিদের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযান চালু করা হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে জনজাতিদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে একশ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করতে হবে।

আজ বিলোনিয়া সার্কিট হাউসের কনফারেন্স হলে এই প্রকল্পের উপর এক পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।

সভায় দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ৫৯টি ভিলেজে ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযানে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক শিবিবে জনজাতি এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তর কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগ, তাঁদের সরকারি সুবিধা প্রদান সহ অনুষ্ঠিত সচেতনতা শিবিরের উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, বিধায়ক মাইলাফু মগ, প্রমোদ রিয়াং, স্বপ্না মজুমদার, অশোক মিত্র, এমডিসি কংজঅং মগ, দেবজিৎ ত্রিপুরা, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক মোহম্মদ সাজ্জাদ পি, অতিরিক্ত জেলা শাসক প্রদীপ কে, হেমন্ত দেববর্মা, বিলোনিয়া মহকুমার মহকুমা শাসক দেবাশিস দাস, শান্তিরবাজার মহকুমার মহকুমা শাসক মনোজ কুমার সাহা, বিভিন্ন ব্লকের বিডিওগণ, জেলার জনপ্রতিনিধিগণ সহ জেলা ও মহকুমান্তরের বিভিন্ন দপ্তরের অধিকারিকগণ।

সভার শুরুতে জেলা কল্যাণ আধিকারিক সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযানে ৫৯টি এডিসি ভিলেজে গত ১৫ জুন থেকে চলতে থাকা বিভিন্ন শিবিরে জনজাতিদের অংশগ্রহণ সহ তাঁদের যেসকল সুবিধা প্রদান করা হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ২৩ হাজার ৩০৭ টি জনজাতি পরিবারের ১ লক্ষের বেশি মানুষকে ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযানে সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭ টি সচেতনতা শিবিরে জনজাতি অংশের ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছে।

সেখানে আধার কার্ড, আয়ুষ্মান কার্ড, কিষান ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি প্রদান সহ বিভিন্ন ধরণের সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার পানীয়জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, জমির পাট্টা বিতরণ ইত্যাদি উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের জেলাস্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি বিলোনিয়া ও শান্তিরবাজার মহকুমার মহকুমা শাসক, বিভিন্ন ব্লকের বিডিওগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন।

সভা শেষে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনজাতিদের কল্যানে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। এই প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে জনজাতি সমাজের সকল অংশের নাগরিকরা পেতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে।

তিনি শিবিরগুলিতে বিশেষ করে আয়ুষ্মান কার্ড প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশের পাশাপাশি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় জাতীয় সড়কগুলির সংস্কারে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট অধিকারিকদের নির্দেশ দেন।

Leave a Comment