সাত মাসের শিশুকে মৃত্যু মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেন জিবিপি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকগণ

অনলাইন ডেস্ক,২৮ মে, ২০২৫: আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক সহ শিশু বিভাগের নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা অক্লান্ত নিরলস প্রচেষ্টা ও লড়াই করে সাত (৭) মাস বয়সী এক শিশু কন্যাকে সুস্থ করে তুলে, জীবন বাঁচালেন। অভিজিৎ দেবনাথের সাত(৭) মাসের শিশুকন্যা আদ্রিজা দেবনাথ গত ১৩ মে, ২০২৫ সপ্তাহব্যাপী জ্বর এবং রক্ত আমাশয়ের সমস্যা নিয়ে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের শিশুবিভাগে ভর্তি হয়। সাথে ছিল প্রস্রাবের মাত্রা কমে যাওয়া, গাঢ় রক্তাভ প্রস্রাব, মুখ ফুলে যাওয়া, খাদ্যে অনীহা এবং অসম্ভব শারীরিক দুর্বলতা।

সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে তাকে ভর্তি করা হয় পিআইসিওতে। প্রাথমিক লক্ষ্য শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা। প্রাথমিক রক্ত পরীক্ষার ফলাফলও ছিল চিন্তাজনক: রক্তে ইউরিয়া (১৫০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার) এবং ক্রিয়েটিনিন (২.১ মিলিগ্রাম/প্রতি ডেসিলিটার) উচ্চ মাত্রা, সাথে রক্তাল্পতা (হিমোগ্লোবিন ৬০৬ গ্রাম) এবং রক্তে অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যাওয়া নির্দেশ করছিল হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম ইউথ একিউট কিডনি ইনজুরি এর দিকে। চিকিৎসকের পরিভাষায় এই রোগে দুটো কিডনিই মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

গুরুদা দিকে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ক্রমবর্ধমান ইউরিয়া এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, সাথে প্রস্রাব একেবারেই কমে যাওয়া রোগপ্রক্রিয়াকে আরও জটিলতর করে তোলে। শিশুর অভিভাবকদের জানানো হয় পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস এর কথা। কিন্তু শিশুর অভিভাবকরা তাকে স্বেচ্ছায় নিয়ে যায় কলকাতায় এক বেসরকারি হাসপাতালে। তাদের সেখানে ১৬ মে, ২০২৫ এক রাতের খরচ হয় সত্তর হাজার টাকা, তাছাড়া জানানো হয় পুরো চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আরও প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায় পিতা-মাতা তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে ফিরে আসে আগরতলায়।

১৯ মে, ২০২৫ তাকে পুনরায় ভর্তি করা হয় জি বি হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভকেয়ার ইউনিট-এ। চিকিৎসা শুরু করা হয় ডাঃ শ্রীবাস দাসের তত্ত্বাবধানে। এবারে ইউরিয়া ২৯৫ মিলিগ্রাম/প্রতি ডেসিলিটার), ক্রিয়েটিনিন ৬.৩ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার) সাথে হিমোগ্লোবিন ৩.৫৭% (মিলিগ্রাম), প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ, শরীরে জমেছে শোথ। অবস্থা বেগতিক হয়ে যায়। অভিভাবকদের সম্মতি নিয়ে এবার শুরু করা হল পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস, সাথে দেওয়া হল ব্লাড ট্রান্সফিউশন। চার দিনের সংগ্রাম, চিকিৎসকদের হার না মানা লড়াই, সাথে পিতা-মাতার ধৈর্যশীল প্রতীক্ষা ধীরে ধীরে ফল দিতে শুরু করল।

উন্নতি হল শিশুর শারীরিক পরিস্থিতির। স্বাভাবিক হল ইউরিয়া ১ মিলিগ্রাম/প্রতি ডেসিলিটার), এবং ক্রিয়েটিনিন ০.৬ মিলিগ্রাম/প্রতি ডেসিলিটার, কিছুটা স্বাভাবিক হল হিমোগ্লোবিন ৯.৪ (মিলিগ্রাম)। ২৬ মে ২০২৫ শিশুটিকে পাঠানো হল সাধারণ বিভাগে। স্বস্তির নিঃশ্বাস মাতা-পিতার এবং চিকিৎসকদের। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় পুরো চিকিৎসাজনিত খরচই বহন করেছে এভি-পিএমজেএওয়াই এবং সাথে জেএসএসকে প্রকল্প। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল এবং নীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসছে।

আগামী কিছুদিনের মধ্যে শিশুটিকে ছুটির পরিকল্পনা নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উক্ত চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত ছিলেন আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ভাঃ শ্রীবাস দাস, অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ চয়ন চাকমা, সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ চন্দনা এস, পিজিটি চিকিৎসক ডাঃ প্রণব রিয়াং, সৌগত সাহা এবং ডাঃ আতেক প্রমুখ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর থেকে এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানানো হয়।

Leave a Comment