প্রগতি ত্রিপুরা, আগরতলা, ১১ মার্চ।। বসন্ত মানেই চারদিকে পলাশ ফুলের ছয়লাপ। গোটা প্রকৃতিই যেন রেঙে ওঠে পলাশের লাল রঙে। শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে প্রকৃতি সেজে ওঠে পলাশের সাজে। আর এই পলাশ ফুল শুধু যে প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় তা নয়, এই ফুলের গুণও অনেক। আয়ুর্বেদ মতে এই গাছ নানা ঔষধি গুণে ভরপুর।
পাতা, বাকল, বীজ ছাড়াও পলাশের ফুলও ওষুধের মতো কাজ করে। এই গাছের বীজের গুঁড়ো খেলে ত্বকের নানা সমস্যা থেকে উপকার পাওয়া যায়। জ্বর, কৃমির সমস্যা, ডিউরেসিস, সিরোসিস, গর্ভধারণ রোধ এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি-সহ নানা রোগে উপশম লুকিয়ে রয়েছে বসন্তের এই ফুলে।
কৃমি থেকে মুক্তি
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, পলাশ গাছের ছাল ডায়রিয়া রোধ করে। এর বীজ কৃমিনাশক। খিদে বাড়াতে পলাশের পাতা কার্যকরী। এক চা চামচ পলাশ পাতার রস ৭-৮ চা চামচ জলে মিশিয়ে সকাল-বিকেল খেলে পেটের অসুখ সারে। এক চামচ পলাশ-ছালের রসের সঙ্গে আধকাপ জল মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে কৃমির উপদ্রব কমে।
ঘুমের সমস্যা দূর
রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হলে ২ চামচ পলাশ পাতার রস ৭-৮ চামচ জলের সঙ্গে মিশিয়ে সকাল বিকেল দু’বার করে ৩-৪ দিন খেলে ভালো ফল মিলবে।
গাঁটের ব্যথায় উপশম
পলাশবীজ গুঁড়োর সঙ্গে মধু মিশিয়ে গাঁটের ব্যথার স্থানে মেখে নিন। নিয়মিত প্রয়োগে আরাম মেলে।
ক্লান্তি দূর হয়
পলাশের কচি পাতার রস ৭-৮ চামচ জলে মিশিয়ে খেলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।
চর্মরোগ
পলাশ বীজ বাটা নানা চর্মরোগ, যেমন, চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পোকামাকড়ের কামড়ে পলাশ বীজ, আকন্দের আঠার সঙ্গে বেটে সেখানে লাগালে উপশম হয়।
রক্ত পরিষ্কার করে রক্ত পরিষ্কার করতে পলাশের বাকল খুব উপকারী। রক্তে দূষণ দূর হলে ত্বকের ব্রণ, ফুসকুড়ি এবং অ্যালার্জির সমস্যাও দূর হয়।
অর্শের উপশম পলাশের শুকনো ফুলের পাঁপড়ি অর্শরোগ সারাতে ভালো কাজ দেয়। পলাশের শুকনো ফুলে উপস্থিত খনিজ পাইলস-এর চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়।
মূত্রজনিত রোগের উপশম পলাশের কুঁড়ি ছায়ায় শুকিয়ে গুঁড়ো করে ছেঁকে নিন। তার সঙ্গে আখের গুড় মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে যে কোনও রকম মূত্রজনিত অসুখে সেরে যেতে পারে। ঘনঘন প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে পলাশ পাতার এক চামচ রস ৭-৮ চামচ জলে মিশিয়ে সকাল-বিকেল খেলে উপকার পাওয়া যায়।এ ছাড়াও, বিশেষজ্ঞদের দাবি, পলাশ ফুল ডায়াবিটিস থেকে ত্বকের সংক্রমণ যেমন লিউকোরিয়া, এসটিডি ইত্যাদি রোগের চিকিৎসাতেও সমান ভাবেই কার্যকর।







