প্রগতি ত্রিপুরা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬: পুনর্বাসিত ব্রু-রিয়াং জনগোষ্ঠীর কেবল স্থায়ী দিনযাপনের ব্যবস্থাই নয়, বরং তাঁদের স্বনির্ভর ও আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সোমবার গোমতী জেলার অমরপুরের আনন্দধারা টাউন হলে আয়োজিত রাজ্যস্তরের বিশেষ টুল কিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বার্তা দেন রাজ্যপাল তথা মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্রু প্রার্থীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি স্টাইপেন্ড প্রদানের সূচনা করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন অধিদপ্তরের একটি বিশেষ পুস্তক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিনের আয়োজনে ১,৮৭৭টি টুল কিট ও ২৫৫টি ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ৪,৫৫৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীর প্রত্যেকের হাতে ২,০০০ টাকা করে মোট ৯১ লক্ষ ৮ হাজার টাকার স্টাইপেন্ড তুলে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০১৮ সালে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিক নির্দেশনায় ব্রু সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কাজ শুরু হয়। তবে প্রকৃত অর্থে পুনর্বাসন তখনই সার্থক হয়, যখন প্রতিটি পরিবারের হাতে উপার্জনের মাধ্যম তুলে দেওয়া যায়।”
শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধীন দক্ষতা উন্নয়ন অধিদপ্তর বর্তমানে ব্রু কলোনিগুলিতে ৪১টি ভিন্ন ট্রেডে ১৬.২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৫,১২১ জন যুবকা-যুবতীকে হস্ততাঁত, ড্রাইভিং, সেলাই, মাশরুম চাষ, সোলার এলইডি মেরামতসহ একাধিক বিষয়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া, বিধায়ক রঞ্জিত দাস, জীতেন্দ্র মজুমদার, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, জেলাশাসক রিঙ্কু লাখের এবং শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ব্রু শরণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্পের প্রদর্শনীর স্টলগুলি ঘুরে দেখেন।








