প্রগতি ত্রিপুরা, ২১ আগস্ট, ২০২৬: বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাড়তি ডিউটি চার্জ আর জোর করে স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার ফের সরব হলো ধর্মনগর। বিদ্যুৎ গ্রাহক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে সাধারণ মানুষ থেকে বিদ্যুৎকর্মী সকলেই একজোট হয়ে হাফলংয়ের যুবরাজনগর সাব-ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার সঞ্জীব দাশগুপ্তের কাছে স্মারকপত্র সহ ডেপুটেশন জমা দেন।
সমিতির নেতৃত্বের অভিযোগ, বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়, দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য চাহিদা। অথচ সেই পরিষেবার ওপরই একের পর এক শুল্ক আর চার্জের বোঝা চাপানো হচ্ছে। বিলে যুক্ত হওয়া ডিউটি চার্জ ও ফিক্সড চার্জের কোনো যুক্তি তাঁরা খুঁজে পাচ্ছেন না। প্রকৃত ব্যবহার না দেখে লোড অ্যাসেসমেন্টের নামে সাধারণ গ্রাহক থেকে ব্যবসায়ী পর্যন্ত সকলের ঘাড়ে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডেপুটেশনকারীরা। নতুন ট্যারিফ ব্যবস্থা এবং প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র আপত্তি তুলেছে কল্যাণ সমিতি।
তাঁদের স্পষ্ট কথা, গ্রাহকদের মতামত ও স্বার্থ নিশ্চিত না করে জোর করে এই ব্যবস্থা চাপানো যাবে না। সময়ভিত্তিক ট্যারিফ চালু হলে বিল আরও বাড়বে এই আশঙ্কার কথাও তাঁরা স্মারকপত্রে তুলে ধরেন। শুধু গ্রাহক হয়রানি নয়, বিদ্যুৎকর্মীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং গোটা বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছে সংগঠনটি।
তাঁদের মতে, পরিষেবা টিকিয়ে রাখতে কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করলেও ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষিত থাকছে। আর পরিষেবা বেসরকারি হাতে গেলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের ওপর শোষণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা। এদিনের ডেপুটেশনে তাঁরা বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার, অযৌক্তিক লোড চাপানো বন্ধ, স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, পরিষেবার মান বাড়ানো এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শক্তিশালী গ্রাহক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে গ্রাহকদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও দপ্তরকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ডেপুটেশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ধর্মনগর মহকুমা সম্পাদক অজয় দেব, সভাপতি সুভাষ রায়, ধর্মনগরের প্রাক্তন বিধায়ক অমিতাভ দত্ত এবং বহু সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহক। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফের আদেশ ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে এবং তা TSECL-এর ওয়েবসাইটে রয়েছে। এখন গ্রাহক ও কর্মীদের এই স্মারকপত্রের পর দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা মহকুমা।








