প্রগতি ত্রিপুরা, ২০ আগস্ট, ২০২৬: ওএনজিসির রাসায়নিক বর্জ্য কৃষিজমি ও মৎস্যচাষের জলাশয়ে মিশে ফসল নষ্ট এবং মাছের মৃত্যুর অভিযোগ। সোনামুড়ার খেদাবাড়ি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে। ক্ষতিপূরণের দাবিতে ওএনজিসির গেট অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা।
সোনামুড়া মহকুমার খেদাবাড়ি এলাকায় ওএনজির ড্রিলিং কাজকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকা থেকে নিষ্কাশিত রাসায়নিক একটি ট্যাঙ্কে জমা করে রাখা হয়। সম্প্রতি বৃষ্টির জেরে সেই ট্যাঙ্ক উপচে রাসায়নিক মিশ্রিত জল কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে।
এর ফলে জমির ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
শুধু কৃষিজমি নয়, তার পাশের জলাশয় এবং ছোট-বড় পুকুরেও রাসায়নিক মিশে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মৎস্যচাষিদের দাবি, জল দূষিত হয়ে বহু মাছ মারা গেছে। কিছু মাছ বেঁচে থাকলেও সেগুলি খাওয়ার উপযুক্ত কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জলাশয় থেকে রাসায়নিক ও কেরোসিনের মতো গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এর ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে বারবার ওএনজিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে ওএনজিসির গেট অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। কৃষকদের দাবি, তাঁদের ফসল ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
কৃষকদের বক্তব্য, জমিই তাঁদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। সেই জমি যদি রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন—এটাই এখন তাঁদের বড় প্রশ্ন। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিষয়টি সোনামুড়া মহকুমা প্রশাসনের কাছেও জানিয়েছেন বলে দাবি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ওএনজিসি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। রাসায়নিক দূষণের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।








