আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই রাজ্যের সড়কগুলিকে সংস্কার করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার : পূর্ত দপ্তরের সচিব

অনলাইন ডেস্ক, ১০ আগস্ট, ২০২৬: আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই রাজ্যের সড়কগুলিকে সংস্কার করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কাজের গুণমানের উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত সমস্ত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আজ সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা জানান পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে।

তিনি জানান, গত ৮ আগস্ট টিআইএফটি-র ওয়ার রুমে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি ও রক্ষণাবেক্ষণ, কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পূর্ত দপ্তর, এন.এইচ.আই.ডি.সি.এল. এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকগণ জেলা-ভিত্তিক অগ্রগতির রিপোর্ট ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে আসন্ন দুর্গাপূজার আগে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি কাজের মান বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন।

পূর্ত দপ্তরের সচিব জানান, বর্তমানে পূর্ত দপ্তরের (আরএন্ডবি)-এর অধীনে ১,৬২২ কিলোমিটার দীর্ঘ ১,০০৬টি রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। এই কাজগুলি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে পূর্ত দপ্তরের (পিএমজিএসওয়াই)-এর অধীনে ১১৯টি রাস্তা, মোট ৬৬৫ কিলোমিটার এবং পূর্ত দপ্তরের (এনএইচ)-এর অধীনে ৩২টি রাস্তা, মোট ৩৭৭ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণের কাজও একই সময়সীমার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ এই তিনটি শাখার অধীনে মোট ১,১৫৭টি রাস্তার প্রায় ২,৬৬৪ কিলোমিটার অংশে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে।

জাতীয় সড়কগুলির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পূর্ত দপ্তরের সচিব। তিনি জানান, এন.এইচ.আই.ডি.সি.এল.-এর অধীনে চম্পকনগর থেকে নলগড়িয়া রেলওয়ে ব্রিজ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক-০৮-এর ১৬ কিলোমিটার অংশের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বর্তমানে চলছে। এছাড়াও খোয়াই থেকে আগরতলা জাতীয় সড়ক-১০৮ বি-এর ৩৮ কিলোমিটার, খোয়াই-কৈলাসহর জাতীয় সড়ক-২০৮-এর ৮০.২ কিলোমিটার এবং চুরাইবাড়ি-আগরতলা জাতীয় সড়ক-০৮-এর ১০৫.৯ কিলোমিটার অংশের রক্ষণাবেক্ষণের কাজও চলছে। নলগড়িয়া রেলওয়ে ব্রিজ থেকে আই.এস.বি.টি. চন্দ্রপুর পর্যন্ত অংশের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পূর্ত দপ্তরের (আরএন্ডবি)-এর মাধ্যমে করা হবে।

তবে চলতি বছর মার্চ মাস থেকে অবিরত বৃষ্টির কারণে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির ফলে রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দপ্তরের কাছে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। জনসাধারণের সুবিধার কথা মাথায় রেখে জেলা সদর, মহকুমা সদর, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশন, হাসপাতাল এবং গুরুত্বপূর্ণ পুজোমণ্ডপের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাগুলিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান পূর্ত দপ্তরের সচিব। তিনি জানান, দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাস্তার কাজের গুণমানের ক্ষেত্রেও কোনও ধরনের আপস করা হবে না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়মিতভাবে কাজের স্থান পরিদর্শন করে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের মান ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।

গত ৮ আগস্টের বৈঠকের পর ১০ আগস্ট সচিবালয়ের কনফারেন্স হল-৩-এ পূর্ত দপ্তরের সচিবের নেতৃত্বে ফলো-আপ বৈঠকেও রাজ্যজুড়ে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি, চলমান কাজ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষাকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা এবং আসন্ন দুর্গাপূজার আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং মানুষের জন্য মসৃণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (রোড এন্ড ব্রিজ) অনুপ দাস, চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পিএমজিএসওয়াই) গৌতম সরকার সহ অন্যান্য শাখার পদস্থ আধিকারিকগণ।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী