সংস্কারের অভাবে বিপজ্জনক মেলাঘর-তেলকাজলা ঝুলন্ত সেতু, বাড়ছ দুর্ঘটনার আতঙ্ক

প্রগতি ত্রিপুরা, ৮ আগস্ট, ২০২৬: দীর্ঘদিনের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মেলাঘর থেকে তেলকাজলা যাওয়ার ঝুলন্ত স্টিল ফুটব্রিজটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর বিভিন্ন অংশের স্টিলের পাত ক্ষয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। প্রতিদিন জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে এই গর্ত পেরিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।

গোমতী নদীর দক্ষিণ পারের প্রায় পাঁচটি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের অন্যতম মুখ্য মাধ্যম হলো এই ঝুলন্ত সেতুটি। বর্তমানে সেতুর এই বেহাল দশায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু দিয়ে পারাপারের সময় সামান্য অসাবধানতা কিংবা পা পিছলে গেলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই ছোটখাটো একাধিক অঘটন ঘটেছে বলে দাবি প্রবীণদের।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই ঝুলন্ত সেতুটির উদ্বোধন করেছিলেন। সূচনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেতুটির নিয়মিত ও উপযুক্ত মেরামতি না হওয়ায় দিন দিন এর পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রায় এক মাস আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই ঝুলন্ত সেতুর করুণ পরিস্থিতির কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বা পুর দপ্তরের কোনো কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি। দিন যত গড়াচ্ছে, মেলাঘর-তেলকাজলা সংযোগকারী এই সেতুর পরিস্থিতি ততই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ, বড় কোনো বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার পরই কি ঘুম ভাঙবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের? প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি কোনো অপ্রিয় ঘটনার জন্যই অপেক্ষা করছে? অবিলম্বে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই ঝুলন্ত সেতুটি পরিদর্শনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পাতগুলি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ, যাতে পথচারীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী