“যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নিষ্ঠা থাকলে আন্তর্জাতিক স্তরে জয় সুনিশ্চিত”: ৫৪তম রাজ্য ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী, যথাযথ প্রশিক্ষণ, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব
প্রগতি ত্রিপুরা, ৮ আগস্ট, ২০২৬: “উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, একাগ্রতা ও অধ্যবসায় থাকলে ত্রিপুরার ক্রীড়াবিদদের পক্ষেও বিশ্বমঞ্চ জয় করা সম্ভব।” শনিবার নেতাজি সুভাষ আঞ্চলিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সে (NSRCC) ৫৪তম ‘ত্রিপুরা স্টেট ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করতে গিয়ে এই আত্মবিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ) মানিক সাহা। রাজ্যে এখন খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রাজ্য সরকার ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা রূপায়ণ করছে। পরিকল্পনা রূপায়ণের ফলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যও এসেছে। বর্তমানে আমাদের রাজ্য থেকেই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে। আজ এন.এস.আর.সি.সি.-র ব্যাডমিন্টন ইন্ডোর হলে ৫৪তম ত্রিপুরা স্টেট ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন রাজ্যে ব্যাডমিন্টন খেলার প্রসার ও নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশের সুযোগই সৃষ্টি করে না বরং ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও উৎসাহের সঞ্চার করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নিয়মিত খেলাধুলা আমাদের সুস্থ, সুশৃঙ্খল, আত্মবিশ্বাসী এবং কর্মক্ষম করে তোলে।

একই সঙ্গে খেলাধুলা আমাদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, দলগত চেতনা এবং জয় পরাজয়কে সমানভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দেয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার ক্রীড়াবিদগণ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। অলিম্পিয়ান পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার সহ রাজ্যের স্বনামধন্য খেলোয়াড়গণ আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে রাজ্যের কৃতী সন্তান অস্মিতা দে স্বর্ণপদক লাভ করেছে। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় জুডো ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্বর্ণপদক অর্জন করে অস্মিতা শুধু ত্রিপুরা নয়, সারা দেশকেই গর্বিত করেছেন। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে যথাযথ প্রশিক্ষণ, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি উভয়ই একটি সুস্থ প্রগতিশীল মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে এখন সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল মাঠ, সিন্থেটিক হকি মাঠ, উন্নতমানের সুইমিং পুল, সিন্থেটিক অ্যাথলেটিক ট্র্যাক প্রভৃতি পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। কৈলাসহর ও উদয়পুরে দুটি মাল্টিপারপাস স্পোর্টস ইন্ডোর হল নির্মাণের কাজ চলছে। বাধারঘাটে দশরথ দেব স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট স্পোর্টস হোস্টেল নির্মাণের কাজ চলছে। বাধারঘাটস্থিত দশরথ দেব স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার দর্শক আসন বিশিষ্ট গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এন.এস.আর.সি.সি.-তে একটি স্পোর্টস হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এই ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা থেকে আগামীদিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়রা উঠে আসবেন এবং ত্রিপুরার নাম আরও উজ্জ্বল করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি সভাপতি রতন সাহা। তিনি বলেন, ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ৫৪তম ত্রিপুরা স্টেট ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব ১৯, সিনিয়র ও ভেটারেন বিভাগে ৮ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে তাছাড়া বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারপার্সন রত্না দত্ত। তিনি বলেন, ত্রিপুরা নতুন দিশায় এখন হাটছে। যার ফলে নতুন নতুন প্রতিভা উঠে আসছে এবং তারা সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করছে। অনুষ্ঠানে তাছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা ক্রীড়া পর্ষদের সচিব সুকান্ত ঘোষ।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী