প্রগতি ত্রিপুরা, ০৩ আগস্ট, ২০২৬: ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৩২ সপ্তাহের এক গর্ভবতী মহিলা। অথচ দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আহতকে দ্রুত হাসপাতালে না পাঠিয়ে মামলা ধামাচাপা ও আপস-মীমাংসার জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। এমনকি অভিযুক্ত চালক ও গাড়িটিকে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে। সুবিচারের আশায় এবং অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর শাস্তির দাবিতে শেষ পর্যন্ত রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মহিলার অসহায় পরিবার। 
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, করবুক মহকুমার যতনবাড়ির বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী শিখা চাকমা নামে এক গর্ভবতী মহিলা শারীরিক জটিলতা নিয়ে গত ২৯ জুলাই প্রথমে নতুনবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে অমরপুর মহকুমা হাসপাতাল হয়ে হাঁপানিয়া রেফার করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বামী রানা চাকমার সঙ্গে ওয়াগনার গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্রামগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছতেই পিছন থেকে একটি দ্রুতগতির ম্যাক্স গাড়ি তাঁদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে।
দুর্ঘটনার তীব্রতায় গর্ভবতী শিখা চাকমার পেটে মারাত্মক আঘাত লাগে। অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে ট্রাফিক ডিউটিতে থাকা বিশ্রামগঞ্জ থানার কনস্টেবল হরেন্দ্র দেববর্মা রক্তাক্ত ও গুরুতর অসুস্থ গর্ভবতী মহিলাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা না করে, উল্টে দু’পক্ষকে ঘটনাস্থলেই বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই পুলিশকর্মী সাফ জানিয়ে দেন— থানায় গিয়ে কোনো লাভ হবে না। পরবর্তীতে আহত মহিলার পরিবারকে এড়িয়ে অভিযুক্ত চালক ও গাড়িটিকে তিনি ছেড়ে দেন বলেও মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় শিখা দেববর্মাকে প্রথমে বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, ওই রাতেই তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিবি হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসকরা। বর্তমানে জিবি-তে তিনি চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এমতাবস্থায়, এক দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীর এমন অমানবিক ও বিতর্কিত ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জখম মহিলার স্বামী রানা চাকমা। জনস্বার্থে এবং কর্তব্যে গাফিলতি করা কনস্টেবল হরেন্দ্র দেববর্মার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।








