প্রগতি ত্রিপুরা , ২৭ জুলাই, ২০২৬ : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিংহদুয়ার হিসেবে সকলেরই পরিচিত সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের নগর পরিষেবা একেবারেই তলানিতে এসে ঠেকেছে বলে অভিযোগ ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে।
১৯৯৫ সালে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা লাঘু হওয়ার পর তৎকালীন বিরোধী নেতৃত্ব নৃপেন চক্রবর্তী তত্ত্বাবধানে ত্রিপুরা রাজ্যে নগর পঞ্চায়েত চালু হয়েছিল। ঐসময় থেকে সাব্রুম নগর পঞ্চায়েত স্থাপিত হওয়ার পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেই বাম সরকার পরিচালনা করেছিল। বাম আমলেও নগরের অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। নগরের জনগণরা বলতে শুরু করেছে উন্নয়ন নামে রাম ভক্তরা যা করেছে সেটা জনগণ দেখেছে এবং সেই অনুযায়ী বিচার-বিশ্লেষণ করে ২০১৮ সালে বাম সরকার পরিবর্তন করে একটা রাম সরকার অর্থাৎ রামনির্ভর সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও নগরের সাধারণ লোকজনরা সেই লঙ্কায় রয়েছে বলে অভিযোগ।
আবার কেউ-কেউ অভিযোগ করে বলছেন: দণ্ডকারণ্যের এর চেয়ে ভালো ছিল। নাগরিকদের অভিযোগ,সারা নগর পঞ্চায়েতে রাস্তাঘাট নরকের রাস্তা থেকেও অনেক খারাপ অবস্থা পরিণত হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা নেই বললেই চলে। যেমন রাস্তার দুইপাশে পাকাড্রেন থাকার সত্বেও জল নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা নেই। রাস্তার দুইপাশে ঘন পাতিজঙ্গল শুধুমাত্র রাস্তার ড্রেন এবং রাস্তাকে অপরিচ্ছন্ন করছে না, সাপ এবং বিষধর পোকামাকড়েরও সেখানে মনে হচ্ছে পোকামাকড়দের জন্মদিনের মহোৎসব চলে।
এছাড়াও বর্ষাকালী সময় বা অল্প বৃষ্টিতে মানুষের পক-প্রণালীর সমস্ত লাইন রাস্তার মধ্যে এসে পড়ে সেখানে মল থেকে শুরু করে যাবতীয় দূষিত পদার্থ নির্লজ্জের মত ভাসতে থাকে। শুধু তাই নয় কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির জল পরলেই সাব্রুম মহাকুমা হাসপাতালে বাউন্ডারি সংলগ্ন আনন্দ পাড়া হয়ে ঠাকুর পল্লী যাওয়ার রাস্তায় হাঁটু জল হয়ে পড়ে। নগরের নাগরিকরা বিপন্ন। অথচ অপরদিকে নাগরিক পরিষেবার শূন্যে কোটায় যাচ্ছে। নগর পঞ্চায়াত এলাকার বাইরের অর্থাৎ সাব্রুম মহাকুমা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বহু জনজাতি তথা উপজাতি ছাত্র-ছাত্রীরা যারা উচ্চশিক্ষিত হওয়ার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণীর থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র-ছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপন্ন।
কারন সন্ধ্যার পরে সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের জনবহুল বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা গুলি অন্ধকার বাঁচতে থাকে। বিদ্যুতের খুঁটি রাস্তা দুইপাশে থাকলেও বিদ্যুতের খুঁটিতে স্ট্রিটলাইট জ্বলতে দেখা যায় না। ভয়ভীতির মধ্যে দিয়ে সন্ধ্যার পরে নগরের লোকজন থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীরা মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়। নগর এলাকায় টু-ইপ কাজ যেটা এমজিএম রেগার বিকল্প ছিল এখন ভিভিজিরামজির অধীনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীজি বলেছেন গ্রামীণ এলাকায় যে হারে কাজ হবে বর্ধিত শহর এলাকায় একই মাত্রায় সেখানে কাজ হবে।
অথচ সাব্রুম নগর এলাকায় সেই অনুপাতে কাজ হচ্ছে না। নাগরিকরা অভিযোগ করে জানান, সাব্রুম নগর পঞ্চায়েত এলাকাতে বছরে মাত্র ১২ দিন হয়। তাও বছরে দুই দাপে। নগরবাসী বলছে প্রতিমাসে যদি নগর প্রশাসন টু-ইপ এর কাজ জারি রাখতো রাস্তার পাশে এত ভারী পাতিজঙ্গল থাকতো না এবং রাস্তা দুপাশে পাকা ডিমগুলিতে পাতে জঙ্গলে ভর্তি থাকত না। “কথায় আছে রাতে মশা দিনে সাপ” বর্তমানে সাব্রুম নগর এলাকার মধ্যে “দিনে মশা রাত্রে সাপ” এই হচ্ছে মশার অত্যাচারের রূপ কথা।
এক কথায় নগরের পাকা ড্রেন গুলিতে মশাদমনের ডিডিটি পাউডার স্প্রে সঠিকভাবে না করাতে সকাল সন্ধ্যা মশার উপরদোপ বেড়ে গিয়েছে। আবার অন্যদিকে পানীয় জল সরবরাহ একটা জোকসে পরিণত হয়েছে। কখন আসবে কেউই সঠিক সময় জানে না। অথচ নগরের লোকজনরা বিভিন্ন রকমের কর (ট্যাক্স) দিতে হয় নগর প্রশাসনকে। এক কথায় বলতে গেলে মৃত্যুর পরেও ট্যাক্সের ছাড় নেই। সব মিলিয়ে নগর পঞ্চায়েতের নাগরিক পরিষেবা নরক গুলজারে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীদের থেকে কর (ট্যাক্স) নেওয়ার বেলায় সবটাই আছে, কেন নগর পরিষেবা নগর প্রশাসন সঠিকভাবে দিতে পাচ্ছেন না এমনটাই জনমনে মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।








