প্রগতি ত্রিপুরা, ২৪ জুলাই, ২০২৬: উনকোটি জেলার কৈলাসহর শহরের হকার্স কর্নার এলাকায় এক দুঃসাহসিক চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা একটি দর্জির দোকানের তালা ও লোহার গ্রিল ভেঙে দোকানে থাকা মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কৈলাসহর থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালাইরপাড় গ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু দাস দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে হকার্স কর্নার এলাকায় দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে দোকানে চুরির খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, দোকানের বাইরের লোহার গ্রিল এবং মূল দরজা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। দোকানের ভেতরে রাখা তিনটি সেলাই মেশিন, প্রায় দশটি চেয়ার, দুই বান্ডিল কাপড়সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উধাও। এছাড়া দোকানের সিলিং ফ্যান ও অন্যান্য আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়েছে।
খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে দোকান থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে একটি পরিত্যক্ত ঝোপের মধ্যে একটি সেলাই মেশিনের নিচের অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।
উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী হিমাংশু দাস দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সক্রিয় কর্মী। তিনি ১৯৯৩ সালে দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে বিজেপির উনকোটি জেলা কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপির উনকোটি জেলা কমিটির সভাপতি বিমল করসহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করেন এবং ঘটনার খোঁজখবর নেন।
ঘটনার পর হিমাংশু দাস বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ শহরের কেন্দ্রে এ ধরনের চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও তিনি ব্যবসা চালিয়ে গেছেন, কিন্তু কখনও এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি। বর্তমান ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এটি শুধু সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; দোকানের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুরের ধরন দেখে পরিকল্পিত হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে চলছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আশ্বাসও দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।








