প্রগতি ত্রিপুরা, ০৯ জুলাই, ২০২৬: নেশা কারবারি স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ এবং তার মা, জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে গৃহবধূর দেড় বছরের ছোট্ট শিশু সন্তানকে। থানার দারস্থ নির্যাতিতা গৃহবধূ এবং তার মা। জানা গেছে গত তিন বছর আগে তেলিয়ামুড়ার রুকিয়া বেগমের মেয়ে হোসেনা বেগমকে আমতলী থানার অন্তর্গত কুলতলী মতিনগর এলাকায় ইছাক মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়ার কাছে বিবাহ দেয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে এক কন্যা সনেশা কারবারি স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ এবং তার মান্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন মোটামুটি ভালো কাটলেও ইতিমধ্যেই তাদের সংসারে অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠে।
বুধবার গৃহবধূ হোসেনা বেগম যখন জানতে পারে তার স্বামী শাকিল মিয়া অবৈধ নেশা ব্যবসার সাথে জড়িত ,তখন সে তার মাকে বিষয়টি জানাবে বলেছিল তাই গৃহবধূর স্বামী শাকিল মিয়া এবং গৃহবধূর শাশুড়ি নূর ভানু গৃহবধূকে মারধর শুরু করে। যদিও গৃহবধূ উচেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ একবার তার শরীরের অপারেশন করা হয়েছিল। পরে গৃহবধূ হোসেনা বেগম যখন বিষয়টি তার মাকে জানায় তখন তেলিয়ামুড়া থেকে তার মা মেয়ের বাড়িতে ছুটে গিয়ে উনার অসুস্থ মেয়েকে কেন মারধর করেছে তা জিজ্ঞাসা করতেই উনার উপরেও আক্রমণ চালায় শাকিল মিয়া এবং তার মা নুর ভানু।
এতেই শেষ নয় নির্যাতিতা গৃহবধুর দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে তার স্বামী এবং শাশুড়ি জোর করে রেখে দেয়। পরে নির্যাতিতা গৃহবধূ এবং তার মা বুধবার সন্ধ্যায় আমতলী থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে স্বামী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এবং দেড় বছরের সন্তানটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ারও আর্জি জানানো হয় পুলিশকে। পরে আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রায় ছোট্ট ছোট্ট কন্যা সন্তানটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে। পুলিশ আসার টের পেয়ে ছোট্ট শিশুটিকে লুকিয়ে ফেলা হয়। যদিও বৃহস্পতিবার সকালে আমতলি থানায় শিশু কন্যাটিকে নিয়ে এসে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সেদিন দুপুর হয়ে গেলেও শিশু কন্যাটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়নি।
এরপর নির্যাতিতা গৃহবধূ এবং তার মা সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হন এবং গোটা ঘটনাটি সাংবাদিকদের ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে তুলে ধরেন। এদিন তারা শিশু কন্যাটিকে ফিরে পাওয়া সহ অভিযুক্ত স্বামী এবং শাশুড়ির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। যেহেতু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশু কন্যাটিকে তার মা ফিরে পায়নি সে ক্ষেত্রে রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশন সহ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন দেড় বছরের এই ছোট্ট শিশু কন্যাটি উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতেও দাবি উঠছে।








