অনলাইন ডেস্ক, ৫ জুলাই, ২০২৬: বর্তমান সময়ে অনেকের জীবনযাত্রার একটি স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠেছে অ্যালকোহল। কেউ কর্মব্যস্ত দিনের শেষে ক্লান্তি দূর করতে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায়, আবার কেউ বিশেষ উপলক্ষ উদযাপনে মদ্যপান করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো ক্রমেই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অ্যালকোহল গ্রহণের এমন কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।
সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক গবেষণার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অ্যালকোহল ক্যানসার, মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিদিন দুই গ্লাস অ্যালকোহলে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি ৯১ শতাংশ বেশি বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যেও কোলোরেক্টাল (বৃহদান্ত্র ও মলদ্বার) ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে। গবেষকদের মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে Cancer সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ৮৮,০৯২ জন মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত মদ্যপান করেছেন এবং প্রতিদিন গড়ে দুই বা তার বেশি অ্যালকোহলিক পানীয় গ্রহণ করেছেন, তাদের কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি হালকা মদ্যপায়ীদের তুলনায় ৯১ শতাংশ বেশি। এছাড়া গবেষণায় আরও দেখা যায়, যারা মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ক্যানসারের পূর্ববর্তী পর্যায়ের অ্যাডেনোমা (অ-ক্যানসারজনিত টিউমার) হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। গবেষকদের মতে, অ্যালকোহল ত্যাগ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
অল্প পরিমাণ অ্যালকোহলও মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে Alcohol জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও মাঝারি মাত্রার অ্যালকোহল গ্রহণ মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২২ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৪৫ জন সুস্থ ব্যক্তির ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ, আয়তন এবং কর্টিকাল পুরুত্ব পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়— নারীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন এক গ্লাস বা তার কম এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে দুই গ্লাস বা তার কম অ্যালকোহল গ্রহণের সঙ্গেও মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি ছিল। ১৬টি পৃথক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, অ্যালকোহল যত বেশি পান করা হয়, ততই বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, লিভারের রোগ এবং অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।








