সিপাহীজলা জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস,  বহিরাজ্য থেকে বিনিয়োগকারীরা ত্রিপুরায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন : মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২৫ জুন, ২০২৬ : সমাজের অন্তিম ব্যক্তিও যেন আর্থসামাজিক দিক দিয়ে উন্নত হতে পারেন, উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পান এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন তার জন্য রাজ্য সরকার দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ণ করছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, তথ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের রাজ্য প্রভূত উন্নতি করেছে। এর ফল স্বরূপ বহিরাজ্য থেকে বিনিয়োগকারীরা ত্রিপুরায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আজ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সিপাহীজলা জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনের শিলান্যাস, লালসিংমুড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ২৪x৭ ইমার্জেন্সি এবং আইপিডি পরিষেবার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি সিপাহীজলা জেলার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। বিশ্রামগঞ্জে অবস্থিত সিপাহীজলা জেলা হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী নতুন ভবনের শিলান্যাস করার পর লালসিংমুড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইমার্জেন্সি পরিষেবার সূচনা করেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রাঙ্গণে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বোতাম টিপে ভার্চুয়ালি ১০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, ২টি পাবলিক হেলথ ইউনিট, বক্সনগর সিএইচসি’র নবনির্মিত কোয়ার্টার কমপ্লেক্স, সিপাহীজলা, জম্পুইজলা এবং বিশালগড় এসডিএম অফিসের কোয়ার্টার কমপ্লেক্স প্রভৃতির উদ্বোধন করেন। তাছাড়া বিশালগড় ইংরেজী মাধ্যম বিদ্যালয়ের নতুন ভবনেরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গ দর্শনে রাজ্য সরকার রাজ্যবাসীর কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে। রাজ্যবাসীকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ করে দিতে জিবিপি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৭২৭ থেকে বৃদ্ধি করে ১৪১৩টি করা হয়েছে। গোমতী জেলা হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। আমবাসাতে চালু করা হয়েছে কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট। প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় রাজ্যবাসী উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। তাতে ব্যয় হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় রাজ্যবাসী ৪১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইএলএস হাসপাতালের কাছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে।

\হোমিওপ্যাথি কলেজ এবং আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যবাসীর কল্যাণে টেলি মেডিসিন পরিষেবাও চালু করা হয়েছে। রাজ্যের সব জেলাতে ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে জিএসডিপি এবং মাথাপিছু গড় আয়ে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, জনভাগীদারি যোজনা, ধরতি আবা, উজ্জ্বলা যোজনা প্রভৃতির মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে সাফল্যের সঙ্গে রূপায়ণ করা হচ্ছে। গত ৮ বছরে রাজ্য সরকার জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তরে ৩৫০টি পুরস্কার পেয়েছে। রাজ্যে গুণগত শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম, টিংকারিং ল্যাব, ভিশন মুকুল, নিপুন ত্রিপুরা, বিদ্যাসেতু প্রভৃতি কর্মসূচি চালু রয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যে ২১টি একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল রয়েছে। জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার উন্নয়নে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গত ৮ বছরে জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৩২টি নতুন ছাত্রাবাস চালু করা হয়েছে। আরও ৪০টি ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ চলছে। জলজীবন মিশনের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ৮৬ শতাংশ বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৬ হাজর ২১৫টি ঘরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনায় রাজ্যের ২ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫৭১ জন কৃষকের অ্যাকাউন্টে ৯৭৭কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের উন্নত আইন শৃঙ্খলার তথ্য উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারীদের সুরক্ষায় রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মহিলা থানা রয়েছে। বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সব অংশের মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল। অনুষ্ঠানে সিপাহীজলা জেলার ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কমিটিকে বাল্যবিবাহ মুক্ত গ্রাম হিসেবে শংসাপত্র দেওয়া হয়। উত্তর চড়িলাম গ্রাম পঞ্চায়েতকে টিবি রোগ মুক্ত পঞ্চায়েত হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিধায়ক মানব দেববর্মা, বিধায়ক বিশ্বজিৎ কলই, বিধায়ক সুবোধ দেববর্মা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সূত্রধর, এডিএম সুভাষ দত্ত, সিপাহীজলা জেলার সিএমও ডা. দেবাশিষ দাস সহ জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ।

Leave a Comment

আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও গোবিন্দ বল্লভ পন্ত হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সার্বিক বিবেচনায় জনস্বার্থে গৃহীত: সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর

গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত, জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সারা রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণে মিশন মোডে কাজ করতে হবে