গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত, জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সারা রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণে মিশন মোডে কাজ করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক,২৪ জুন, ২০২৬: শুধুমাত্র আগরতলা শহরের বর্তমান চাহিদা নয়, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সারা রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণে মিশন মোডে কাজ করতে হবে। আজ আগরতলার এস. পি. মুখার্জি লেনস্থিত টিআইএফটি-র ওয়ার রুমে গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। বৈঠকের শুরুতে সুশাসন দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে স্বচিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে আগরতলা শহরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানীয়জলের চাহিদা, বিদ্যমান জল সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং গোমতী নদীকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত দীর্ঘমেয়াদি জল সরবরাহ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বর্তমানে আগরতলা শহরে জল সরবরাহের একটি বড় অংশ ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, নগরায়ণ এবং শুখা মরশুমে জলসংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে একটি টেকসই ভূপৃষ্ঠ জলভিত্তিক উৎস গড়ে তোলার প্রয়োজন। পাশাপাশি উদয়পুরের মহারাণী ব্যারেজ এলাকা থেকে জল আহরণ, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক, জলাধার তৈরি এবং জল পরিশোধন পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রস্তাবিত রূপরেখাও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবগত হন। তিনি বলেন, কেবলমাত্র আগরতলা শহরের কথা চিন্তা করলেই হবে না, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সারা রাজ্যের জন্য জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পানীয়জলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, এই বিষয়ে মিশন মোডে কাজ করতে হবে এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

বর্তমানে যে পরিমাণ জল অপচয় হচ্ছে বা বিভিন্ন কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না, সেই জলকে কীভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বর্ষাকালে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রচেষ্টা ও অধ্যাবসায় অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলা যায়। সুদুরপ্রসারী ভাবনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের সূচনা ঘটায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কর্মদক্ষতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে বহু অসম্ভবকেই সম্ভব করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে পানীয়জলের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে গোমতী নদীভিত্তিক একটি স্থায়ী জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাব্য রূপরেখা এবং শুখা মরশুমে জল সংরক্ষণের লক্ষ্যে পৃথক কাঁচা জলাধার খননের বিষয়েও আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন পানীয়জল সরবরাহের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত থেকে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তরের সচিব অভিষেক সিংহ, পূর্ত দপ্তরের সচিব পি. কে. গোয়েল, মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি পরমানন্দ সরকার ব্যানার্জী, আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশনের অধিকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত থেকে আলোচ্য বিষয়ের উপর নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেন।

Leave a Comment

গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত, জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সারা রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণে মিশন মোডে কাজ করতে হবে