আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও গোবিন্দ বল্লভ পন্ত হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সার্বিক বিবেচনায় জনস্বার্থে গৃহীত: সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর

অনলাইন ডেস্ক, ২৫ জুন, ২০২৬ : রাজ্য মন্ত্রিসভার গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখের বৈঠকে আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং গোবিন্দ বল্লভ পন্ত হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তার যুক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশের অধিকাংশ রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি দেওয়া হয় না। ২০০৫ সালে আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার সময়ও প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখার একটি প্রস্তাব ছিল, যদিও তা বাস্তবায়িত করা হয়নি।

তিনি আরও জানান, বিহার, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। অন্যদিকে কেরল, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও রাজস্থানের মতো রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত চিকিৎসক এবং প্রশাসনিক পদে থাকা চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস), নয়াদিল্লির পরিচালক ড. এম. শ্রীনিবাস এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠান দুটিকে সেন্টার অব এক্সেলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারকে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য সচিব আরও জানান যে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা গত ২১ জুন, ২০২৬ তারিখে অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং এজিএমসি টিচার্স ফোরামের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উভয় সংগঠনই সর্বসম্মতিক্রমে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার প্রস্তাবকে সমর্থন জানায়। পাশাপাশি তারা নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স (এনপিএ)-এর ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি, সময়মতো পদোন্নতি এবং শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত কিছু সহায়তার প্রস্তাব দেয়। বর্তমানে ত্রিপুরা মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস রুলস সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষক-চিকিৎসকদের সময়মতো পদোন্নতি নিশ্চিত করা যায়। মন্ত্রিসভা চিকিৎসকদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স (এনপিএ) মঞ্জুর করার পাশাপাশি মূল বেতন ও এনপিএ-র ওপর মহার্ঘ ভাতা নির্ণয়েরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালে ক্রমবর্ধমান শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক, চিকিৎসক এবং সিনিয়র রেসিডেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। সুপার স্পেশালিটি পরিষেবার জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকও নিয়োগ করা হচ্ছে। শিক্ষক-চিকিৎসকরা যদি আরও বেশি সময় প্রতিষ্ঠান দুটিতে ব্যয় করেন, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সুপার স্পেশালিটি কোর্স চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার নিদর্শনের উদ্ধৃতি করে চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতির প্রতি তার বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

Leave a Comment

আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও গোবিন্দ বল্লভ পন্ত হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সার্বিক বিবেচনায় জনস্বার্থে গৃহীত: সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর

গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত, জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সারা রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণে মিশন মোডে কাজ করতে হবে