প্রগতি ত্রিপুরা,১৭ জুন, ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে উত্তর ত্রিপুরা জেলার আটটি ব্লক এবং বিভিন্ন নগর পঞ্চায়েত ও পৌর পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী জনকল্যাণ শিবিরের সফল সমাপ্তি হয়েছে। শিবিরের শেষ দিনে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেন। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এই শিবিরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর অংশগ্রহণ করে।
নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, বন, গ্রামীণ উন্নয়নসহ একাধিক বিভাগের পরিষেবা এক ছাদের নিচে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থাও ছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। কদমতলা ব্লকে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে কয়েক শতাধিক মানুষ বনদপ্তরের উদ্যোগে বিতরণ করা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা সংগ্রহ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
এছাড়াও বহু মানুষ আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য কার্ড, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেন। শিবিরে স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী রোজগার সৃজন কর্মসূচি (পিএমইজিপি) এবং প্রধানমন্ত্রী ফরমালাইজেশন অব মাইক্রো ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজেস (পিএমএফএমই) প্রকল্পের আওতায় ঋণ গ্রহণের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী যুবক-যুবতীদের মধ্যে এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
জনকল্যাণ শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে কদমতলা ব্লকের ১৫৯ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর হাতে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার উদ্দেশ্যে ডাস্টবিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারি প্রকল্পগুলির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। কদমতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান মিহির রঞ্জন নাথ দূরদর্শনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারি পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনমুখী প্রকল্প সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও এই ধরনের শিবির অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তিনদিনব্যাপী এই জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে উত্তর ত্রিপুরা জেলার হাজারো মানুষ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবা গ্রহণ করে উপকৃত হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। শিবিরের সফল আয়োজনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।







