প্রগতি ত্রিপুরা, ১৫ জুন, ২০২৬: সোমবার রাজধানী আগরতলায় নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিতে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হাতিয়ার করে আগরতলা শহরের মধ্যে বাহুবলির পরিচয় দিল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সহ ৫ দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করতে নেমেছিল প্রদেশ যুব কংগ্রেস।
এদিন কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে যুব কংগ্রেসের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সিএনজি, পিএনজি, এলপিজি, পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং বেকার সমস্যার সমাধানের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করেন। মিছিলটি আরএমএস চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের অগ্রগতি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপরই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে। ব্যর্থ হয়ে আরক্ষা কর্মীরা যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের উপর লাঠি চার্জ করে। তবে তাতেও আন্দোলনকারীরা পিছু না হটলে অনেকেই রাস্তায় বসে ও শুয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন। এই ঘটনায় একাধিক যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকের রক্ত ঝড়ে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনজনের হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেছে যুব কংগ্রেস।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে আরএমএস চৌমুহনী এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকে। যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা রাস্তায় বসে যাওয়ার পর পুলিশ তাদেরকে আটক করে গাড়িতে করে এডিনগর পুলিশ লাইনের অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার জানান ৭০ জনের অধিক লোককে আটক করে অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুব কংগ্রেস পুলিশের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নিল কমল সাহা জানান দিনের পর দিন দেশ ও রাজ্যের হাল বেহাল হয়ে যাচ্ছে। ছেলে মেয়েদের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। নিটের প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়ে গেছে।
তার প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ ত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। এইদিকে আটক যুব কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের এডিনগর পুলিশ লাইনের অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় বাদে তাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এদিন পুরোপুরিভাবে প্রশ্নের মুখে উঠেছে কতিপয় পুলিশ আধিকারিকের কারণে।







