প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ জুন, ২০২৬: শান্তিরবাজারে চুরির ঘটনা এখন যেন নিত্যদিনের রুটিন! রাতের অন্ধকারে একের পর এক দোকানে ভাঙছে তালা, সাবাড় হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী। অথচ নীরব দর্শকের ভূমিকায় পুলিশ প্রশাসন। নৈশকালীন টহলদারির নামে পুলিশ শুধু কোণায় কোণায় বসে সময় কাটাচ্ছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
বাজারে সিসি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও অধরাই থেকে যাচ্ছে চোরের দল। পুলিশের এই ব্যর্থতায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শান্তিরবাজারের ব্যবসায়ীরা।চোরের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে শান্তিরবাজার। সম্প্রতি বাজারের পাইকারি সবজি আড়তদার নারায়ণ দত্তের দোকান এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দিরসহ একাধিক দোকানে হানা দেয় ‘নি শি কুটুম্বের’ দল। দোকানের তালা ভেঙে লুটে নেওয়া হয় বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকা সত্ত্বেও চোরদের চিহ্নিত করতে বা খাঁচাবন্দি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ শান্তিরবাজার থানার পুলিশ প্রশাসন।ব্যবসায়ীদের দাবি, পুলিশ যদি রাতে নামমাত্র টহল না দিয়ে সঠিকভাবে বাজার এলাকায় নজরদারি চালাত, তবে বারবার এই চুরির ঘটনা ঘটত না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থানীয় কালী মন্দিরে এক বা দুবার নয়, এপর্যন্ত প্রায় পাঁচ থেকে ছয়বার চুরির ঘটনা ঘটেছে! পবিত্র উপাসনালয়ও এখন সুরক্ষিত নয় চোরদের হাত থেকে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের ক্ষোভ, শান্তিরবাজার থানার পুলিশের মূল ব্যস্ততা এখন চোর ধরা নয়, বরং নাকা চেকিংয়ে বসে হেলমেটহীন বাইক আরোহী কিংবা গরুর গাড়ি ধরা। রাজস্ব আদায় বা নিয়ম দেখানোর চক্করে আসল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, এই ধারাবাহিক চুরি তারই প্রমাণ।
সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ চোরদের হদিস পাচ্ছে না? কেন বারবার একই এলাকায় চুরির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে? পুলিশ কি সত্যিই শুধু নাকা চেকিংয়েই ব্যস্ত, নাকি শান্তিরবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে তাদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে? এখন দেখার, এই গণঅসন্তোষের পর শান্তিরবাজার থানার পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে কি না, নাকি চোরের উপদ্রব এভাবেই জারি থাকবে।







