সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলাম যে অবদান রেখে গেছেন তা আজও প্রাসঙ্গিক: উচ্চশিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন, ২৬ মে, ২০২৬: কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, দার্শনিক ও ঔপন্যাসিক। এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন মুক্তির সংগ্রামী, যিনি জাত, পাত, ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে দেশের মুক্তির সংগ্রামের জন্য আহ্বান করেছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের কাছে একজন চেতনা, জাগরণ ও বিপ্লবের নাম। আজ সোনামুড়া টাউনহলে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন একথা বলেন। বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন অন্যতম কবি, যার গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও প্রভাব ভারতবর্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশেও রয়েছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেমন প্রতিবাদী ছিলেন তেমনি প্রেম, মানবতা, শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান এই ডিজিট্যাল যুগে কেউ যদি সাহিত্য থেকে দূরে সরে যায় তাহলে সে সাহিত্য ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে।

সাহিত্য শুধু মানুষকে শিক্ষিত করে না, তা মানুষকে মানবিক করেও তোলে। ভারতের আত্ম তার সংস্কৃতির মধ্যেই রয়েছে। তাই ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা বিস্তার করতে হবে। রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তির সাথে সাথে সাহিত্য চর্চাকে আরও প্রসারিত করার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সুভাষ দত্ত, সিপাহীজলা জেলা শিক্ষা আধিকারিক মহম্মদ সেলিম এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী উত্তম দাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোনামুড়া মহকুমার মহকুমা শাসক রাজু দেব, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের উপঅধিকর্তা পাঞ্চালী দেববর্মা, বিশিষ্ট সমাজসেবী শুভ্রজিৎ দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মহকুমার বিভিন্ন সংস্থার শিল্পীগণ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

Leave a Comment