প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১৫০টি প্রডিউসার গ্রুপ গঠন করা হয়েছে: প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২১ মে, ২০২৬: আমাদের রাজ্য মূলত কৃষি নির্ভর রাজ্য। এ রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল। তবে প্রাণীপালন সেক্টরে আমাদের রাজ্যে অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ বাস্তবায়ণে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর, জনজাতি কল্যাণ দপ্তর ও ত্রিপুরা গ্রামীণ আজীবিকা মিশনের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। ত্রিপুরা রুর‍্যাল ইকোনোমিক গ্রোথ এবং সার্ভিস ডেলিভারি প্রজেক্ট অর্থাৎ টিআরইএসপি সেই দরজাটা খুলে দিয়েছে। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস আজ প্রজ্ঞাভবনের ১নং হলে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক কর্মশালা ও পশু সখি কিট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

ত্রিপুরা রুর‍্যাল ইকোনোমিক গ্রোথ এবং সার্ভিস ডেলিভারি প্রজেক্ট (টিআরইএসপি) এর অধীনে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর, জনজাতি কল্যাণ দপ্তর ও ত্রিপুরা গ্রামীণ আজীবিকা মিশনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকগণ, প্রাণী চিকিৎসকগণ ছাড়াও পশু সখিগণ ও প্রাণী প্রশিক্ষণার্থীগণ অংশ নেন। কর্মশালার উদ্বোধন করে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে জনজাতি এলাকার আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নেওয়া হয়েছে টিআরইএসপি প্রজেক্ট। এটি মাল্টি সেক্টরাল প্রজেক্ট। রাজ্যের সর্ববৃহৎ প্রজেক্ট, যা গ্রামীণ উন্নয়নের চিত্রকে বদলে দিতে পারে। এজন্য ১৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

যার মধ্যে ১২০০ কোটি টাকা বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং রাজ্য সরকার ২০ শতাংশ অর্থ বহন করছে। তবে এই বরাদ্দ অর্থে শুধু প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর প্রাণীপালনে কাজ করবে এমনটা নয়, এখানে কৃষি ও কৃষি কল্যাণ, উদ্যানপালন, মৎস্য, পূর্ত, শিক্ষা, গ্রামোন্নয়ন সহ আরও কয়েকটি দপ্তরকে সাথে নিয়ে সার্বিক উন্নয়নে রাজ্য সরকার এই অর্থ ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী বলেন, টিআরইএসপি ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৮-২৯ এই ৬টি অর্থ বছরের জন্য নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে জনজাতি এলাকার মানুষের আর্থিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে শূকর, ছাগল, হাঁস-মোরগ ও গাভী পালনে সহায়তা করা, সেল্টার হাউজ নির্মাণ করা, প্রডিউসার গ্রুপ ফরমেশন করা, প্রশিক্ষণ প্রদান, পশু খাদ্য সরবরাহ, গবাদী প্রাণীর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, টিকাকরণ, বিভিন্ন কিট প্রদান, টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রদান ইত্যাদির সংস্থান রাখা হয়েছে।

প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ৯৫০টি প্রডিউসার গ্রুপ (পিজি) গঠন করা হয়েছে। এতে ২২ হাজারের উপর গ্রামীণ মহিলারা উপকৃত হচ্ছেন। আরও প্রডিউসার গ্রুপ গঠন করা হবে। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী বলেন, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরে ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ অর্থে নানা উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের কাজ যাতে সুচারুভাবে পরিচালিত হয় সে লক্ষ্যে ভারত ফিনান্সিয়াল ইনক্লোশান লিমিটেড ও এই দপ্তরের সাথে একটি মৌস্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ১৩টি মোবাইল ইউনিট রয়েছে।

আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাণীপালকগণ ১৯৬২ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করেও সমস্যা জানাতে পারেন। তিনি বলেন, মাংস উৎপাদনে আমরা স্বয়ংন্তর হয়েছি। মাছ, ডিম ও দুধ উৎপাদনে স্বয়ংন্তর হবার জন্য লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই জন্য লক্ষ্য পূরণে প্রাণীসম্পদ বিকাশ, মৎস্য, জনজাতি কল্যান ও ত্রিপুরা গ্রামীণ আজীবিকা মিশনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বক্তব্য রাখেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা সুভাশীষ দাস এবং ভারত ফিনান্সিয়াল ইনক্লোশন লিমিটেডের কিশোর সাম্বাসিভম। টেকনিক্যাল সেশনে আলোচনায় অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গ লাইভস্টক কর্পোরেশনের এমডি উৎপল কর্মকার এবং প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উপঅধিকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় রায়।

কর্মশালায় মৎস্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অফিসিয়াল লোগো-র আবরণ উন্মোচন করেন। তিনি ‘ভারত সঞ্জিবনী প্রজেক্ট’ এর অধীন মোবাইল ভেটেরিনারী ইউনিট এর কল সেন্টারের এবং আইইসি মেটেরিয়্যালের আবরণ উন্মোচন করেন। কর্মশালায় মৎস্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ ত্রিপুরা রুর‍্যাল ইকোনোমিক গ্রোথ ও সার্ভিস ডেলিভারি প্রজেক্টে ৮০ জন পশু সখির হাতে মোট ২৪ প্রকারের পশু কিট ও শংসাপত্র তুলে দেন। এছাড়া প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রাণীপালনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মান্দাই ব্লকের ২ জন এবং বেলবাড়ি ব্লকের ২ জন পশু সখির হাতে ৮ ধরণের ‘আর্টিফিসিয়াল ইনসেমিনেশন ইন পিগ’ কিট তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় তারা প্রাণীপালকের বাড়িতে গিয়ে পিগ এআই-এর বিষয়ে পরিষেবা দেবেন। কর্মশালায় টিআরইএসপি-র বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা ডা. বিমল কৃষ্ণ দাস।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী