কুকুরের আক্রমণে ১৯টি গবাদি পশুর মৃত্যু ! ঘটনা উত্তর জেলার রাজনগরে

প্রগতি ত্রিপুরা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : কুকুরের আক্রমণে ১৯টি গবাদি পশুর মৃত্যু ! ঘটনা উত্তর জেলার রাজনগরে। পাগল কুকুরের আতঙ্কে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে উত্তর ত্রিপুরা জেলা-র যুবরাজনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রাজনগর গ্রাম।

এক ভবঘুরে পাগল কুকুরের আক্রমণে এক রাতেই ত্রিশটিরও বেশি গবাদিপশু গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, ইতিমধ্যেই ১৯টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ কৃষক পরিবারগুলি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে রাজনগর গ্রামের দুটি ওয়ার্ড এলাকায় ওই পাগল কুকুরটি একের পর এক গবাদিপশুকে কামড়ে আক্রমণ চালায়।

পরদিন ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থরা নিকটবর্তী পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে যান। অভিযোগ, পশু চিকিৎসা কেন্দ্রের একটি দল এলাকায় এসে আক্রান্ত গরুগুলিকে মাত্র একটি করে ভ্যাকসিন দিয়ে বাকি চারটি ভ্যাকসিন গৃহস্থদের নিজেরাই পুশ করার নির্দেশ দিয়ে চলে যান।

এছাড়াও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পশু চিকিৎসার নাম করে পরিবার পিছু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, কোথাও আবার ১২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এই টাকা আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক।

নিয়মিত পশু চিকিৎসক দলের তদারকি না থাকা এবং সাধারণ মানুষ দিয়ে ভ্যাকসিন পুশ করানোর ফলে চিকিৎসা কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ।

এর ফলেই ধীরে ধীরে একের পর এক গরুর মৃত্যু ঘটছে। অনেক গৃহস্থ বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থ গজেন্দ্র নাথ বলেন, “আমাদের নিজেরাই ভ্যাকসিন দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। ঠিকভাবে না দেওয়ায় চিকিৎসা কাজে আসেনি। সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা হলে এত গরু মরত না।

এক মহিলা গৃহস্থ অভিযোগ করেন, তাঁর দুটি গরুর চিকিৎসার জন্য প্রথমে ১২০০ টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১০০০ টাকা দিতে হলেও সঠিক চিকিৎসা না করেই চিকিৎসক দল অন্যত্র চলে যায়।

পরবর্তীতে একটি গরুর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দুই কর্মীর দাবি, গ্রামবাসীরাই স্বেচ্ছায় টাকা দিয়েছেন এবং তাঁরা গরু বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।

এ বিষয়ে যুবরাজনগর বিধানসভার বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ প্রশাসনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “খবর পাওয়ার সময় মাত্র দুটি গরু মারা গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে এসডিএম-কে জানানো হলেও কার্যত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

বিধায়কের অভিযোগ, চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই আবার ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং সাধারণ মানুষ দিয়ে ভ্যাকসিন পুশ করানোর বিষয়টিকেও তিনি সন্দেহের চোখে দেখছেন।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এনডিআরএফ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তার দাবি তুলেছেন তিনি এদিকে ধর্মনগর শহর ও আশপাশের গ্রামাঞ্চলে ভবঘুরে কুকুরের অবাধ বিচরণ থাকলেও পুর পরিষদ বা কোনও অ্যানিম্যাল রেসকিউ সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন রাজনগর গ্রামের সাধারণ কৃষকরা। অনেকেরই দাবি, এই গবাদিপশুগুলিই ছিল তাঁদের একমাত্র জীবিকা।

Leave a Comment