প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : হোস্টেলে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে মোবাইল ফোন না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের কাছে জোরালো আবেদন জানালেন বিকাশ দেববর্মা।
শনিবার দশদা-কাঞ্চনপুরের দক্ষিণ তুইসামা এলাকায় অবস্থিত পূর্ণজয় সিপি হাই স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রী নিবাস পরিদর্শনে এসে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
তাঁর সঙ্গে ছিলেন এমডিসি ভূমিকা নন্দ রিয়াং। সম্প্রতি এই বিদ্যালয়ের গার্লস হোস্টেল থেকে তিন ছাত্রী এবং বাইরে থেকে আসা দুই নাবালিকা মেয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা যোগাযোগের জেরে হোস্টেল ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
পরে বিমানবন্দর থানার তৎপরতায় পাঁচ নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁদের ভিনরাজ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।
শনিবার হোস্টেল পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ভূমিকা এবং কীভাবে ছাত্রীরা বাইরে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হল, তা খতিয়ে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে।
তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাবালিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে, বন্ধুত্ব ও প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে বিভ্রান্ত করছে। এই ঘটনার পিছনেও সেই ধরনের একটি চক্র কাজ করেছে বলে আশঙ্কা।
”মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিশেষত হোস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের একাধিকবার ভাবা উচিত। তাঁর কথায়, “পড়াশোনার পরিবেশ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রাখতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি।
অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট চক্রটিকে চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং তদন্ত এগোচ্ছে।
পাশাপাশি হোস্টেলগুলির নিরাপত্তা জোরদার করা এবং নজরদারি বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ও দ্রুত উদ্ধার অভিযানে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। এখন নজর—চক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার দিকে।








