আই.আই.সি.ডি.ই.এম.-২০২৬-এ ই.সি.আই.নেট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬: ভারতের নির্বাচন কমিশন (ই.সি.আই.) আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সম্মেলন (আই.আই.সি.ডি.ই.এম.) ২০২৬-এ ই.সি.আই.নেট চালু করেছে। এটি নির্বাচন-সংক্রান্ত সকল তথ্য ও পরিষেবার জন্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন (২১-২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সি.ই.সি.) জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু ও ড. বিবেক যোশির সঙ্গে পরামর্শক্রমে ই.সি.আই.নেট-এর ধারণা প্রণয়ন করেন এবং এর উন্নয়নের ঘোষণা ২০২৫ সালের মে মাসে করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সি.ই.সি. জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ই.সি.আই.নেট আইন মেনে কঠোরভাবে উন্নত করা হয়েছে এবং এটি ইংরেজি সহ সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত ২২টি ভাষায় উপলব্ধ।

তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলি (ই.এম.বি.)-কে তাদের নিজ দেশের আইন ও ভাষা অনুযায়ী অনুরূপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানান। নির্বাচন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু বলেন, ই.সি.আই.নেট একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, যা নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করে, অধিক স্বচ্ছতা আনে, সকল কার্যক্রমের নজরদারি সহজ করে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তথ্য প্রচারে সহায়তা করে।

নির্বাচন কমিশনার ড. বিবেক যোশি বলেন, এই সম্মেলন ই.এম.বি.-গুলিকে প্রযুক্তি গ্রহণ ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী অনুশীলন থেকে শেখার ও অনুপ্রেরণা নেওয়ার সুযোগ দেবে। তাঁর উপস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মহাপরিচালক ড. সীমা খান্না বলেন, সাইবার সুরক্ষা ই.সি.আই.নেট-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি এখন আর কেবল সহায়ক কার্যক্রম নয়, বরং একটি কৌশলগত সক্ষমতা।

তিনি আরও যোগ করেন, ই.সি.আই.নেট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনআস্থা বৃদ্ধি করে। ই.সি.আই.নেট বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচনী পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের সকল নির্বাচনী পরিষেবাকে একক, নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে একত্রিত করেছে। এতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ৪০টিরও বেশি অ্যাপ ও পোর্টাল সংযুক্ত করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি ভারতের সংবিধান, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ ও ১৯৫১, ভোটার নিবন্ধন বিধি, ১৯৬০ এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধি, ১৯৬১-এর সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে উন্নত করা হয়েছে।

ই.সি.আই.নেট নাগরিক, প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের সংযুক্ত করে এবং ভোটার নিবন্ধন, ভোটার তালিকা অনুসন্ধান, ‘ট্র্যাক ইয়োর অ্যাপ্লিকেশন’, ‘নো ইয়োর ক্যান্ডিডেট’, নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, বি.এল.ও.-এর সঙ্গে কল বুকিং, ই-ইপিক ডাউনলোড, ভোটদানের প্রবণতা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাকে একটি সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।

বিটা সংস্করণটি ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এস.আই.আর.)-এর সময় সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে নির্বাচন কমিশন নাগরিক-কেন্দ্রিক উন্নত নির্বাচনী পরিষেবা প্রদান করতে এবং এক ক্লিকে সকল নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য উপলব্ধ করতে সক্ষম হয়। চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আগে নাগরিকদের কাছ থেকে প্রস্তাবও আহ্বান করা হয়।

বিটা প্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত ই.সি.আই.নেট-এর মাধ্যমে ১০ কোটিরও বেশি নিবন্ধন ফর্ম প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে- প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২.৭ লক্ষ ফর্ম। প্ল্যাটফর্মে ১১ লক্ষেরও বেশি বুথ লেভেল অফিসার (বি.এল.ও.) নিবন্ধিত। এস.আই.আর. চলাকালীন এ পর্যন্ত ১৫০ কোটিরও বেশি নথি এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাইজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য ই.সি.আই.নেট একটি নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা প্রদান করে। ভারতের নির্বাচন কমিশন থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।

Leave a Comment