অনলাইন ডেস্ক, ১০ নভেম্বর, ২০২৫: কদমতলা-কুর্তিতে কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি: সিপিআই(এম) ও বিজেপি থেকে ১৩৭ পরিবারের যোগদান। চুড়াইবাড়িতে যোগদান সভা, বাইক র্যালিতে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন প্রদেশ নেতৃত্ব। ত্রিপুরায় আসন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ফের একবার নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করল কংগ্রেস দল।
রবিবার কদমতলা কুর্তি ব্লক কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে চুরাইবাড়ি কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল যোগদান সভা। এদিন সিপিআই(এম) এবং বিজেপি—উভয় দল থেকেই বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক কংগ্রেসের প্রতি আস্থা রেখে হাত ধরলেন। বক্তারা সভায় দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের একমাত্র বিকল্প শক্তি হিসেবে আজ কংগ্রেস দলই রাজ্যের জনগণের আস্থা অর্জন করছে। বিশাল বাইক র্যালিতে আগমন এদিনের অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই ছিল উৎসবমুখর।
সভার সূচনায় ধর্মনগর থেকে এক সুবিশাল বাইক র্যালির মাধ্যমে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি আশীষ কুমার সাহা এবং বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে চুরাইবাড়ি কমিউনিটি হলে নিয়ে আসা হয়। কংগ্রেসের পতাকা হাতে শত শত কর্মী-সমর্থকের উচ্ছ্বাস আর স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজন প্রমাণ করে, কদমতলা-কুর্তি ব্লকে কংগ্রেসের জনভিত্তি এখন মজবুত। ত্রিপুরার রাজনৈতিক মানচিত্রে এই যোগদান সভা এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলো।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ১৩৭টি পরিবারের ৪৫৮ জন ভোটার কংগ্রেস দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। সিপিআই(এম) দল থেকে ১০২টি পরিবার ও বিজেপি দল থেকে ৩৫টি পরিবার। দীর্ঘদিনের লাল দূর্গ এবং সাম্প্রতিককালে বিজেপির প্রতি বিতৃষ্ণা থেকেই এই বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক কংগ্রেসের আদর্শে সামিল হয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রদেশ সভাপতি আশীষ কুমার সাহা এবং বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন নবীন সদস্যদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন এবং তাঁদের স্বাগত জানান। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কদমতলা কুর্তি ব্লক কংগ্রেসের এই যোগদান সভাকে সফল করতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ ও জেলা স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিদ চৌধুরী, উত্তর জেলার কংগ্রেস সভাপতি দিগ বিজয় চক্রবর্তী, ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মানিক লাল দাস এছাড়াও প্রদেশ নেতৃত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চয়ন ভট্টাচার্য, হীরালাল নাথ, কেবল নন্দি, ইন্দ্রজিৎ পাল সহ কংগ্রেসের শাখা সংগঠনের একাধিক নেতৃত্ব।
বক্তাদের কণ্ঠে পরিবর্তনের সুর সভায় বক্তারা প্রত্যেকেই রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের তীব্র সমালোচনা করে মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের ডাক দেন। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে শুধুমাত্র কংগ্রেসই পারে রাজ্যের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, শান্তি ও উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে। এই যোগদান সভা প্রমাণ করে, রাজ্যে কংগ্রেসের পক্ষে জনস্রোত শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে তা আরও বেগবান হবে।








