রাজ্যভিত্তিক জনকল্যাণ শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশের জনগণের মধ্যে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১৪ জুন, ২০২৬: উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি দেশের মূলভাগের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রমশ এগিয়ে চলছে। এই অঞ্চলের রাজ্যগুলির জিডিপি বৃদ্ধি, পর্যটনের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির মাধ্যমেই সম্ভবপর হচ্ছে।

এবছর প্রথমবারের মতো নীতি আয়োগ আলাদা করে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে উক্ত অঞ্চলের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বৈঠক করেছে। যা উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সদর্থক মনোভাবেরই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী রাজ্যভিত্তিক জনকল্যাণ শিবিরের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।

এই শিবির আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত শিবির চলবে। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলি সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন। তাছাড়া আগামী ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত আগরতলা পুর নিগম সহ রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক, পুর পরিষদ এবং নগর পঞ্চায়েত এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়ে টিম ইন্ডিয়া হিসেবে দেশের উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাধারা সমূহ দেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণে রাজ্য সরকারগুলিও বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশের জনগণের মধ্যে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে। জনগণের মনের মধ্যে এসেছে আত্মবিশ্বাস, জাগ্রত হচ্ছে জনকল্যাণের স্পৃহা।

মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিন্তাধারার ভুয়সী প্রশংসা করে এক পের মা কে নাম, মেরা মাটি মেরা দেশ, সীমান্ত গ্রাম, অমৃতবাটিকা, হর ঘর তিরাঙ্গা, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ইউপিআই লেনদেন, জিএসটি ব্যবস্থা চালু সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাজ্যের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন বর্তমানে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা দিক থেকে সমগ্র দেশের রাজ্য গুলির মধ্যে নিচের দিক থেকে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

ক্যাবিনেট থেকে শুরু করে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পর্যন্ত ই-অফিস চালু, সুশাসন বিভাগ চালু করা হয়েছে। রাজ্যের প্রায় সব অংশের জনগণকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। জি.এস.ডি.পি. ও মাথাপিছু আয় এর দিক দিয়ে ত্রিপুরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে এক লক্ষ আট হাজারের উপর লাখপতি দিদি রয়েছেন। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরো ২৫ হাজার বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল এবং জলপথ বিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের উন্নয়নের চিত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। তাতে ত্রিপুরার আপামর জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। মহিলাদের ক্ষমতায়ন রাজ্যের অর্থনীতির বিকাশ, যুবাদের কর্মসংস্থানে বর্তমান রাজ্য সরকার সঠিক দিশায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গদর্শনে কাজ করে চলেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণে নিষ্ঠার সহিত সঠিক নীতি নিয়ে ও কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে চলেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ প্রভৃতির সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের শিশু থেকে বয়স্ক, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল জনগণের কল্যাণে কাজ করে চলছেন প্রধানমন্ত্রী। যা স্বাধীনতার পর প্রায় ৬০ বছর ধরে রাজত্ব করা রাজনৈতিক দলসমূহ কখনোই করে দেখায়নি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছর শাসনকালে দেশের প্রায় ২৫ কোটি জনগণ দারিদ্র্য সীমারেখা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। যা এই কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পসমূহের কার্যকরী বাস্তবায়নকেই নির্দেশ করে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনকালে উত্তর পূর্বাঞ্চলকে ভারতবর্ষের উন্নয়নের ইঞ্জিন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি এ অঞ্চলের মানুষের মনে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং এগিয়ে যাওয়ার ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।

আজ এ অঞ্চলের রাজ্যগুলি ভারতবর্ষের যেকোন রাজ্যের তুলনায় পর্যটন থেকে বিনিয়োগ সকল ক্ষেত্রেই অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র। তিনি বলেন, শান্তি হলো উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় দশ হাজার উগ্রপন্থী মূল স্রোতে ফিরে এসেছে। বর্তমানে ভারতবর্ষ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলির সঙ্গে যেকোনো ক্ষেত্রে চোখে চোখ রেখে মোকাবিলা করার পর্যায়ে উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের নদী ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরকে ব্যবহার করে ত্রিপুরা রাজ্যকে বিশ্বের দরবারে উন্মোচিত করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি প্রদর্শনী শিবির এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্প সমন্বিত প্রদর্শনী মন্ডপ ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন এবং পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছরের কার্যকালের একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আজকের এই জনকল্যাণ শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিধায়কগণ, পি.এস.ইউ.-র চেয়ারম্যানগণ, আগরতলা পুর নিগমের কাউন্সিলর সহ রাজ্য সরকার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment