রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাজ্য সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ০৯ নভেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিসেবা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাজ্য সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। শুধুমাত্র জিবিপি কিংবা আই জিএম হাসপাতাল নয়, রাজ্যের সকল জেলা কিংবা মহকুমা স্তরের হাসপাতালগুলোর ও পরিকাঠামো এবং পরিষেবা উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

আজ ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের বিবেকানন্দ অডিটরিয়ামে আয়োজিত অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিশিয়ান অফ ইন্ডিয়া (API) এর ত্রিপুরা শাখার ২৫ তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। দুদিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনে রাজ্যের স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. বিজয় পাল, ডা. গীযুষ কুমার দত্ত, ডা. তুষার কান্তি দে এবং ডা. গৌতম রায় চৌধুরীকে লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপকদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন গুলির মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিজেদের মধ্যে তাদের অভিজ্ঞতার আদান প্রদান করতে পারেন, যা চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এই ধরনের মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে শুধুমাত্র আলাপচারিতাই হবে না, সমাজের সর্বাঙ্গীন বিকাশে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যে বর্তমানে তিনটি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। যেখানে প্রায় ৪০০ এমবিবিএস আসন রয়েছে। ডেন্টাল কলেজে আসন রয়েছে ৬৩টি। ইতিমধ্যে আগরতলার অদূরে বোধজংনগরে বেসরকারি সিজা হাসপাতালের ভিত্তপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতালের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তাছাড়া একটি মেডিকেল কলেজ এখানে নির্মাণ করা হবে।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যে রাজ্যে পাঁচটি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। এজিএমসি এবং জি বি পি হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতি এবং রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ১০ টাকার বিনিময়ে রোগীর সাথে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের খাদ্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজ্যের চিকিৎসক সংকট দূর করার জন্য ইতিমধ্যে ডাক্তার নিয়োগ করা হয়েছে।

তাছাড়াও রাজ্যে বিএসসি নার্সিং, এ এন এম, জি এন এম, ফার্মাসিস্ট ইত্যাদি পড়ার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। সর্ব সুবিধা থাকা সত্বেও রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবিপি তে পরিচালনগত ত্রুটির জন্য মাঝেমধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়ে থাকে। তাই এই হাসপাতালের রোগী পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ের উন্নতি সাধনে ইতিমধ্যেই দিল্লি এইমস এর সাথে রাজ্য সরকারের একটি মৌ সাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ও মুখ্যমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনায় প্রায় ২৬ কোটি টাকা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য কল্যাণে বায়িত হয়েছে। রাজ্যে এখন প্রায় ১,১০০ এর উপর হেলথ এন্ড ওয়েলনেস সেন্টার রয়েছে। আইএলএস সংলগ্ন ফাঁকা জমিতে আগামী দিনে একটি অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে।

মুখ্যমন্ত্রী সম্মেলনের অংশগ্রহণকারী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্য মাথাপিছু আয় এবং জি এস ডিপি তে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্য। অনুষ্ঠানের মুখ্যমন্ত্রী অ্যাসোসিয়েশনের একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিশিয়ান অফ ইন্ডিয়া এর ত্রিপুরা শাখার সম্পাদক ডা. সৌমেন চৌধুরী।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি প্রফেসর (ডা.) জ্যোতির্ময় পানা। উপস্থিত ছিলেন এজিএমসির ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর (ডা.) তপন মজুমদার, মেডিকেল এডুকেশন এর অধিকর্তা প্রফেসর (ডা) এইচ দি শর্মা, এ পি আই এর সদস্য প্রফেসর (ডা.) প্রদীপ ভৌমিক। অনুষ্ঠানের ধনাবাদসূচক বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য শাখার সভাপতি প্রফেসর (ডা) অরিন্দম দত্ত।

Leave a Comment