পাওনা টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে ভাটিদুধপুর চাঞ্চল্যকর ঘটনা

প্রগতি ত্রিপুরা, ১১ অক্টোবর, ২০২৫। পাওনা টাকার লেনদেন ঘিরে তাণ্ডব! আতঙ্কে ভাটিদুধপুর গ্রাম!! পাওনা টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে কুমারঘাটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ভাটিদুধপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে এই তাণ্ডব।

স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত সরকার ও তাঁর পরিবার অভিযোগ তুলেছেন, উত্তর জেলার ধর্মনগরের বাসিন্দা দেবজ্যোতি ধর ও তাঁর সহযোগীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালিয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, প্রায় কুড়ি মাস আগে সুব্রত সরকার তাঁর ছেলে মারফত দেবজ্যোতি ধরের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা ধার নেন।

নটারি মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানা গেছে। চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে না পারলে চার শতক জমি হস্তান্তর করার কথা ছিল।

সেই সময় সুব্রত সরকার একখানি স্বর্ণের চেইন জামানত হিসেবে দেন। সুব্রত সরকারের দাবি, গত কয়েক মাসে তাঁরা অনলাইন ও নগদ মিলিয়ে মোট ৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দেবজ্যোতি ধরকে ফেরত দিয়েছেন।

এমনকি বাকি পরিমাণ নিয়ে আলোচনাও চলছিল। কিন্তু এই অবস্থাতেই ১০ই অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে দেবজ্যোতি ধর তাঁর কয়েকজন সহযোগী ও স্থানীয় থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে নিয়ে সুব্রত সরকারের বাড়িতে উপস্থিত হন, এবং তারা আরা জানান যে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তারা সুদ সহ ১৮ লক্ষ টাকা দাবি করেন।

অভিযোগ, সুব্রত সরকারের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী, কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও পুত্রের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকির সুরে কথা বলা হয়।

দেবজ্যোতি ধরের দলের সদস্যরা বাড়িতে তাণ্ডব চালান বলেও অভিযোগ।

পরিবারের সদস্যদের প্রতি অশালীন মন্তব্য করা হয় এবং তাঁদের মানসিকভাবে অপমানিত করা হয়।

আরও জানা যায়, সুব্রত সরকার করোনা পরিস্থিতির সময় কাঞ্চনবাড়ি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কিছু ঋণ নিয়েছিলেন, যার প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এখনও পরিশোধ করা বাকি।

সেই বিষয়েও দেবজ্যোতি ধর সুব্রত সরকারের পরিবারকে অপমান করেন বলে অভিযোগ তুলেছে পরিবারটি।

পুরো ঘটনার ন্যায়বিচার চেয়ে সুব্রত সরকার ও তাঁর পরিবার ইতিমধ্যেই কুমারঘাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, জেলা পুলিশ সুপার এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত আরজি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য, পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কারও বাড়িতে প্রবেশ করে হুমকি ও দুর্ব্যবহার করা আইনবিরোধী কাজ।

তাঁরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন যাতে সুব্রত সরকারের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গ্রামে এখনো আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে — “আইনের রক্ষক যদি পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নেন, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কোথায়?”

Leave a Comment