প্রগতি ত্রিপুরা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬: পারস্পরিক কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল ভারত ও উজবেকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দিনের সফরে তাসখন্দে অবস্থানরত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মিরজিয়েভের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই ঘোষণা করা হয়।
বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে পারমাণবিক জ্বালানি—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে দুই নেতাই একমত হয়েছেন। বৈঠকে গৃহিত হওয়া প্রধান সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্যগুলি একনজরে: বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা: বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি: বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির চাহিদা মেটাতে উজবেকিস্তানের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করতে রাজি হয়েছে উভয় দেশ। সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ: বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, সংকটময় খনিজ ও খননকার্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, ওষুধ শিল্প, স্বাস্থ্য, তথ্য প্রযুক্তি, ইউপিআই (UPI) সহ ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান ও নজরদারি বৃদ্ধি: পারস্পরিক সহযোগিতাকে সঠিক দিশা দেখাতে বিদেশমন্ত্রীদের স্তরে একটি ‘সমন্বয় পরিষদ’ (Coordination Council) গঠন করা হবে। পাশাপাশি, বিদ্যমান যৌথ কমিশনকে সচিব স্তর থেকে মন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়াও দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতৃেত্বর অংশগ্রহণে একটি যৌথ বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে উভয় নেতার উপস্থিতিতে খনি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন এবং আয়ুর্বেদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এর পাশাপাশি, উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান ‘ফায়েজ তেপা’ এবং ‘কারা তেপা’-র সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য একটি অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। কৌশলগত অংশীদারিত্বের ১৫ বছর পূর্তিতে এই উচ্চপর্যায়ের অংশীদারিত্ব দুদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।








