অনলাইন ডেস্ক,০৫ জুলাই, ২০২৫: ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযানের অঙ্গ হিসেবে আজ কাঁঠালিয়া আর.ডি. ব্লকের অন্তর্গত মনাইপাথর এ.ডি.সি. ভিলেজ স্থিত নবকুমার চৌধুরী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি মেগা প্রশাসনিক এবং স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রশাসনিক শিবিরের উদ্বোধন করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের সদস্য পদ্মলোচন ত্রিপুরা, কাঁঠালিয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান মিঠু রাণী দাস এবং কাঁঠালিয়া ব্লক এডভাইজারী কমিটির চেয়ারম্যান তপন কুমার ত্রিপুরা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ রাখেন কাঁঠালিয়া ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অভিজিৎ কুমার দাস। শিবিরে সোনামুড়া মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০ টি পি.আর.টি.সি, ৫১ টি ইনকাম সার্টিফিকেট, ৫ টি ম্যারেজ সার্টিফিকেট, ১৪ টি রেশন কার্ড এবং ৬৪ টি এস.টি. সার্টিফিকেটের জন্য আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়; এবং ২৫ টি এস.টি. সার্টিফিকেট আগের আবেদনপত্রের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়।
এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রায় ৭০ জন রোগীকে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়। আয়ুষ্মান কার্ড প্রদান করা হয় ২৬ জন সুবিধাভোগীকে।
কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে সুবিধাভোগীদের ৬ টি পাওয়ার উইডার, ১ টি পাওয়ার টিলার এবং ভেজিটেবল সীডলিং প্রদান করা হয় প্রায় ১৫০০ টি।
প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের পক্ষ থেকে ২০ টি পরিবার’কে ৯০ টি গবাদি পশু, ৫২ টি শুকর, ৩০ টি ছাগল এবং ২২০ টি মোরগের জন্য বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়।
মৎস দপ্তরের পক্ষ থেকে ৩ জন সুবিধাভোগীকে মাছের পোনা প্রদান করা হয়। গত বছরের আগস্ট মাসের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জন মৎস্য চাষিকে ২,৮৮০ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়।
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা’র অধীনে ৬ জন মৎস্য চাষী’কে নানা সুবিধা প্রদান করা হয়। কাঁঠালিয়া ব্লক এ্যডভাইজারী কমিটি’র পক্ষ থেকে মনাইপাথর এডিসি ভিলেজ, কালিখলা এডিসি ভিলেজ, থলিবাড়ী এডিসি ভিলেজ এবং জগৎগ্রামপুর এডিসি ভিলেজের অন্তর্গত মোট ২২ টি বিদ্যালয়ে ২২ টি ফুটবল, ১টি ভলিবল, ১টি ভলিবল নেট, ১ সেট টেনিস ক্রিকেট কিট, ৫টি লুডো সেট, ২ টি দাবা খেলার সরঞ্জাম এবং ১০ টি যোগা মেট প্রদান করা হয়।
কাঁঠালিয়া আর.ডি. ব্লকের স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন এ.ডি.সি. ভিলেজের মোট ৪ টি বাজার কমিটিকে সর্বোমোট ৪০ জোড়া আবর্জনা রাখার পাত্র প্রদান করা হয়।
শিবিরে কাঁঠালিয়া আই.সি.ডি.এস. প্রজেক্টের পক্ষ থেকে ১০টি পোষণ কিট্, ১টি হুইল চেয়ার, ১টি এলো স্টিক, ১টি এলো হ্যান্ড-স্টিক, একটি ব্লাইন্ড স্টিক, ৫টি শ্রবণ যন্ত্র, ৪টি পরিশোধিত পানীয় জলের ফিল্টার বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সামাজিক ভাতার ফর্ম জমা নেওয়া হয় মোট ২২ টি এবং আই.জি.সি. ফর্ম জমা পড়ে ৪ টি। কাঁঠালিয়া ব্লকের ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশনের পক্ষ থেকে সর্বমোট ১৬.৫ লক্ষ টাকার ব্যাঙ্ক লোন স্বনির্ভর দিদিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভি.ডি.ভি.কে-প্রকল্পের অধীনে মোট ২১১ জন স্বনির্ভর দিদি’কে পি.এম.এস.বি.ওয়াই এবং পি.এম.জে.জে. ওয়াই-এর মাধ্যমে বিমার আওতায় আনা হয়। ভি.ডি.ভি.কে-প্রকল্পের অধীনে মোট ১১১ জন স্বনির্ভর দিদিদের ব্যঙ্ক লোনের আবেদন পত্র জমা নেওয়া হয়।
এই অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচুর পরিমাণ চারাগাছ প্রদান করা হয়। মহকুমা প্রশাসনের ডি.সি.এম. পূর্বা সিনহা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কাঁঠালিয়া ব্লক কার্যালয় থেকে এ সংবাদ জানানো হয়েছে।








