বিলোনীয়ায় তিনটি দপ্তরের পর্যালোচনা সভা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে আধিকারিকদের কাজ করতে হবে: মৎস্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১১ জুন, ২০২৫: জনকল্যাণমুখী সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিকারিকদের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। একশো শতাংশ সফলতা অর্জনে সময়ের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

প্রতিটি কাজে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মানসিকতাও থাকতে হবে। আজ বিলোনিয়া সার্কিট হাউসের কনফারেন্দ হলে ৩টি দপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন মৎস্য, প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংগু দাস।

এই পর্যালোচনা সভায় মৎস্য, প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও এপশিলি জাতি কল্যাণ এই তিনটি দপ্তরের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে দক্ষিণ নিপুরা জেলায় দপ্তর কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহ ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে পরিকল্পনা সমূহ বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মন্ত্রী সুধাংশু দাসের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিও এই সভায় এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দণ্ড, বিধায়ক স্বপ্না মজুমদার, বিধায়ক মহিপা মণ, বিধায়ক দীপঙ্কর সেন, বিধায়ক অশোক মিত্র, মৎস্য, প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও রূপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার, জেলা শাসক মোঃ সাজাদ পি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা নীরজ কুমার চঞ্চল, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে, বিলোনিয়া মহকুমার মহকুমা শাসক সেবাশিস দাস, শান্তিরবাজার মহকুমার মহকুমা শাসক মনোজ কুমার সাহা, বিভিন্ন ব্লকের বিডিওগণ, জেলার জনপ্রতিনিধিগণ সহ জেলা মহকুমান্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অধিকারিকগণ।

সভার শুরুতে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের উপ অধিকর্তা ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় প্রাণী পালকদের সুবিধার্থে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের খতিয়ান সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে সকলের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মুখ্যমন্ত্রী প্রাণী সম্পদ বিকাশ যোজনায় পোল্ট্রি ও হাঁস পালন, পশু খাদ্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, টিকাকরণ ও প্রাণী পালক সম্মান নিধি যোজনায় সহায়তা প্রদানে ১০০ শতাংশ সফলতা এসেছে। এছাড়া ১০ লক্ষেরও বেশি পশু ও পাখির চিকিৎসা করা হয়েছে।

ফুট মাউথ ডিজিজ থেকে পশুদের মুক্ত রাখতে প্রায় ২ লক্ষ গবাদী পশুকে টিকাকরণ করা হয়েছে। উন্নত। বাহুর উৎপাদনের লক্ষ্যে সেক্স সর্টেড সিমেন প্রয়োগের মাথামে কৃত্রিম প্রজননে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

এছাড়া শুকর পালন, অ্যাজোলা চাম, ক্রস ব্রিড স্ত্রী বাচ্চুর বিতরণ সহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণী পালকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রাণী পালকদের সাহাযার্থে কিষান ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থা করা, ইস্টারেস্ট সাবভেনশন স্কিমে গবাদী পশু ও শুকর পালনে সহায়তার কথাও তিনি সভায় উল্লেখ করেন।

প্রাণী সম্পদ বিকাশমী চাষীদের কিষান ক্রেডিট কার্ড প্রদানে গুরুত্ব দিয়ে করার জন্য অধিকারিকদের নির্দেশ দেন। এছাড়াও তিনি টিকাকরণ শিবির, পশু স্বাস্থ্য শিবির, প্রাণী সচেতনতা শিবির ইত্যাদি করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকযোগে প্রচার করার জন্য অধিকারিকদের নির্দেশ দেন।

এছাড়া তিনি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় গবাদী পশুর জন্য কাউ শেল্টার হাউস (গো-শালা) নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের জন্য মহকুমা শাসকদের নির্দেশ দেন। তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা যেন প্রাণী পালকরা সঠিক সময়ে পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভায় মৎস্য দপ্তরের উপ অধিকর্তা বলেন, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় বর্তমানে ৩৯টি মৎস্য সমবায় রয়েছে। আরও ৩টি নতুন সমবায় গঠন করা হবে। বর্তমানে জেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ৫৬০ মে.টন। মাছ উৎপাদন হচ্ছে ১০ হাজার ২১৪ মে. টন। মাছের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে মৎস্য চাষীদের সহায়তা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মৎস্য বিকাশ যোজনা ও মুখ্যমন্ত্রী মৎস্য সম্পদা যোজনায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া জলাশয়ে মাছ উৎপাদনের সঠিক পরিবেশ বজায় রাখতে সময় সময়ে মাটি ও জল পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

মৎস্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে তপশিলি জাতি, জনজাতি ও মহিলা উদ্যোগীদের হ্যাচারি স্থাপনে সরকারি ভূর্তুকির মাধ্যমে সাহায্য করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রচার ও প্রসারে তিনি দপ্তরের অধিকারিকদের পাশাপাশি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করার জন্য আবেদন জানান।

তিনি মৎস্যচার্থী যারা এখনও বীমার আওতায় আসেনি তাদের এর আওতায় আনার লক্ষ্যে দপ্তরের অধিকারিকদের উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেন। এছাড়া কেসিসি লোন প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করতে জেলাশাসককে নির্দেশ দেন।

সভায় তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জেলা আধিকারিক প্রি-মেট্রিক, পোস্ট-মেট্রিক, প্রফেশনাল কোর্সের জন্য ওয়ান টাইম ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট, ডঃ বি আর আম্বেদকর মেরিট অ্যাওয়ার্ড, বোর্ডিং হাউস স্টাইপেন্ড, পিএসএজেওয়াই, জেলার বিভিন্ন তপশিলি ছাত্রাবাসের সংস্কার ইত্যাদির বিস্তারিত তথ্য তথ্য তুলে ধরে আলোঃ ধরে আলোচনা করেন।

তপশিলি অসুবিধা না হয় জাতি কল্যাণমন্ত্রী ছাত্র-ছাত্রীদের স্কলারশিপ। রেশিপ ও স্টাইপেন্ড পেতে যাতে কোনো অসুনি তারজন্য ইনকাম সার্টিফিকেট এবং তপশিলি সার্টিফিকেট প্রদানে দ্রুততার সাথে কাজ করার জন্য মহকুমা শাসকদের নির্দেশ দেন।

এছাড়া তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের স্বলারশিপ প্রদান, তপশিলি সম্প্রদায়ভুক্ত পরিবারের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সহ এলাকার উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার জন্য আবেদন রাখেন। প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর এবং মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে দক্ষিণ জেলায় মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে ভাল করার পাশাপাশি কাজের গুণগতমান বজায় রেখে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য আয়ান জানান।

Leave a Comment