অনলাইন ডেস্ক, ২১ মে, ২০২৫: : আসন্ন বর্ষার পাক মুহুর্তে বাংলাদেশ বেআইনিভাবে বাঁধ নির্মাণ করে বিপাকে ফেলল বিলোনিয়া সীমান্তবর্তী বল্লামুখা গ্রামের মানুষকে। গত কয়েকদিন ধরে গোটা এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলমগ্ন হয়ে আছে। জলের নিচে মানুষের বাড়ি ঘর এবং কৃষিজ জমি।
বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে পরিদর্শনে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা পলিটব্যুরোর সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী। সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন বিরোধী দলনেতা। এবং এই বাধ কবে নাগাদ গড়ে তোলা হয়েছে সে বিষয়ে অবগত হন।
তারপর তিনি বিএসএফ ক্যাম্পে গিয়ে আধিকারিকের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মানুষের বাড়িঘর এবং জমি বাঁচাতে ভারতের সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে এই বাঁধ নির্মাণ করেছে।
সবটাই দিনের আলোতে হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনরকম বাধা দেওয়া হয়নি। এটা সরকারের গাফিলতি, অবহেলা এবং ভুল। এটা কোনভাবেই বাঞ্চনীয় ছিল না। ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় যখন কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ চলছিল তখন এক ইঞ্চি এদিক ওদিক হলে ওপার থেকে বাংলাদেশের সেনারা ভারতের উদ্দেশ্যে গুলি ছুঁড়তো।
অথচ এখন তারা আন্তর্জাতিক নিয়ম না মেনে বেআইনিভাবে এত বড় বাঁধ নির্মাণ করে ফেলল অথচ রাজ্য প্রশাসন ও বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো রকম বাধা দেওয়া হয়নি।
সরকারের দায়িত্ব ছিল যুদ্ধকালীন উদ্যোগ নেওয়ার। বিরোধী দলনেতা আরো জানিয়েছেন, সীমান্ত সংরক্ষিত ভূমিতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত চুক্তি অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ সরকার তাদের এলাকায় ভারতীয় সীমান্তের কোথাও ৫০ গজ আবার কোথাও ১০ গজেরও কম এলাকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন দীর্ঘ এক থেকে দেড় কিলোমিটার বাঁধ তৈরি করে। গ্রামবাসীরা প্রত্যক্ষ করে যে বাঁধের কোথাও জল যাওয়ার রাস্তা রাখা হয়নি।
আগে যে খাল ছিল তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাবাসীরা। যেখানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত চুক্তি ছিল কোন দেশ সীমান্তে কিছু করতে গেলে তা সীমান্তের পিলার থেকে দেড়শো গজ দূরে করতে হয়। তা না করে বাংলাদেশের এই বাঁধ নির্মাণ করে নিয়েছে।
এক প্রকার ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকার জনগণ। দাবি তুলছে অতিসত্বর বাংলাদেশ সরকার আগের জায়গায় খাল খুলে বাঁধ ভেঙে দেওয়ার জন্য, নতুবা ভারতীয় ভূখণ্ডে আই সি নগর ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নতুন খাল তৈরীর করার দাবি উঠেছে।
এদিকে আজকে বিরোধী দলনেতার সাথে পরিদর্শনে ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক সুধন দাস, বিধায়ক অশোক মিত্র এবং বিধায়ক দীপঙ্কর সেন সহ সিপিআইএমের একটি প্রতিনিধি দল।







