অনলাইন ডেস্ক,২৪ এপ্রিল, ২০২৫: তপশিলি জাতি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রী ও জনগণের কাছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের গৃহীত প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মচারিদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। তপশিলি জাতি জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১৩০ কোটি ৭৪ লক্ষ ৪২ হাজার টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে।
তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস আজ গোর্খাবস্তিস্থিত জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের কনফারেন্স হলে তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের রাজ্যভিত্তিক পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন। পর্যালোচনা সভায় তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে, বিভিন্ন জেলার জেলা কল্যাণ আধিকারিকগণ, মহকুমা কল্যাণ আধিকারিকগণ ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। পর্যালোচনা সভায় তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, সমাজের গরীব ও দুঃস্থদের সেবা করা আমাদের প্রধান কাজ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহাও এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাই আধিকারিক ও কর্মচারিদের পিছিয়ে পড়াদের এগিয়ে নিতে আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। নিয়মিতভাবে স্কুল, ছাত্রাবাস, ট্রেনিং সেন্টার ও উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করতে হবে। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। সপ্তাহে দু’দিন হোস্টেল পরিদর্শন করতে হবে। তিনি বলেন, তপশিলি জাতি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের যেসকল প্রকল্প রয়েছে তা সময়মত সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে আমরা যাতে আরও বেশি কাজ করতে পারি ও সুনাম অর্জন করতে পারি তার প্রচেষ্টা নিতে হবে। তিনি বলেন, তপশিলি জাতি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক বিকাশে শুধু রাজ্যভিত্তিক নয়, আগামী মে মাস থেকে প্রত্যেক জেলায় জেলাভিত্তিক পর্যালোচনা শুরু করা হবে। সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশানের মাধ্যমে আলোচনার সূচনা করেন তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির মোট ১৭ হাজার ৮১৯ জন ছাত্রছাত্রীকে প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। ড. বি আর আম্বেদকর মেরিট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে ৭৪৬১ জনকে।
ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সেরা ১০ জনের মধ্যে মাধ্যমিকে ৩ জন ও উচ্চমাধ্যমিকে ৩ জনকে অর্থাৎ মোট ৬ জনকে ড. বি আর আম্বেদকর স্পেশাল মেরিট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কোর্সে পড়ুয়া ৮৫৪ জন ছাত্রছাত্রীকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদয় যোজনায় ৮টি জেলার ৩২টি এস সি অধ্যুষিত গ্রামে পানীয়জল, বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, রাস্তা সংস্কার, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংস্কার ইত্যাদি কাজের জন্য ১৫৯৫১ লক্ষ টাকা মঞ্জুরী দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তপশিলি জাতি বিকাশ যোজনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪২৮ জন প্রাণীপালককে পোল্ট্রি মোরগ, হাঁসপালনে এবং ৫০০ জনকে মাছ, শুকনো মাছ এবং সব্জিজ ভেন্ডারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মহারাজগঞ্জ মাছ বাজারের উন্নয়নে ৭৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হবে। তিনি জানান, বর্তমানে ৩৩টি হোস্টেলে মোট ১২১ জন কোর সাবজেক্টের শিক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন। প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপে ৬৯৬৫ জন ছাত্রছাত্রীকে ও পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপে ২০ হাজার ৫৪ জন ছাত্রছাত্রীকে স্টাইপেন্ড দেবার প্রক্রিয়া চলছে।
অপরিচ্ছন্ন কাজে নিযুক্ত ২০২ জন ছাত্রছাত্রীর অভিভাবককে আর্থিক সহায়তা করা হবে। তিনি জানান, বাবু জগজীবন রাম ছাত্রী নিবাস প্রকল্পে সোনামুড়া দ্বাদশ শ্রেণি বালিকা বিদ্যালয়ে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভগিনী নিবেদিতা ছাত্রী নিবাস এবং হরিণা হাই স্কুলে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হরিণা ছাত্রী নিবাস নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অমরপুরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট রাঙ্গামাটি এস সি গার্লস হোস্টেল এবং ৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবিয়াছড়া এস সি গার্লস হোস্টেল নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। সভায় জেলা কল্যাণ আধিকারিক, মহকুমা কল্যাণ আধিকারিক ও বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণও আলোচনায় অংশ নেন। সভার শুরুতে সম্প্রতি জম্মু কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে নিহত পর্যটকদের স্মৃতিতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।








