প্রগতি ত্রিপুরা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু আজ সকালে আগরতলার লিচুবাগানস্থিত বাঁশ ও বেত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান (বিসিডিআই) পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজকর্ম সম্পর্কে অবহিত হওয়া, বিশেষ করে বাঁশ চাষ, প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি, পণ্য উন্নয়ন এবং গুণমান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা। প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর পর বাঁশ ও বেত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের (বিসিডিআই) ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ড. অভিনব কান্ত এবং তাঁর সহকর্মীরা রাজ্যপালকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
রাজ্যপাল প্রথমে বাঁশ পাঠশালা ও বাঁশ নার্সারি পরিদর্শন করেন। সেখানে ড. অভিনব কান্ত তাঁকে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ, সেগুলির বৈশিষ্ট্য, চাষের পদ্ধতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঁশের ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপর রাজ্যপাল বাঁশ প্রক্রিয়াকরণ ও প্রযুক্তি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাঁশ প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করেন। তাঁকে বাঁশ প্রক্রিয়াকরণ, মূল্য সংযোজন এবং পণ্য উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাঁশজাত পণ্যের গুণমান, উৎপাদন দক্ষতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়েও আধিকারিকগণ তাঁকে অবহিত করেন।
রাজ্যপাল বাঁশজাত পণ্য পরীক্ষাগারও পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানে বাঁশজাত পণ্যের গুণমান, শক্তি, স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের জন্য থাকা পরীক্ষামূলক সুবিধাগুলি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়। বাঁশজাত পণ্য নির্ধারিত মান পূরণ করছে এবং বৃহত্তর বাজারে ব্যবহারের উপযোগী কিনা তা নিশ্চিত করতে গুণমান পরীক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কেও আধিকারিকগণ তাঁকে জানান। রাজ্যপাল বিসিডিআই-এর উদ্যোগে তৈরি বিভিন্ন বাঁশজাত পণ্যের প্রদর্শনীও পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের প্রয়োগ তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকগণ তাঁকে বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বাঁশজাত পণ্যে আরও উদ্ভাবন, মূল্য সংযোজন ও বাণিজ্যিকীকরণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, ত্রিপুরা বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঁশের ব্যবহারের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যপাল বাঁশ শিল্পের প্রসারে বাঁশ ও বেত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান (বিসিডিআই)-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কারিগর ও শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বাঁশ প্রক্রিয়াকরণ এবং বাঁশজাত পণ্য তৈরির দক্ষতা অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাঁশ চাষের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন (টিআরএলএম) জেলা ও রাজ্যস্তরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে বাঁশজাত পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। এর ফলে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ এবং উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজ্যপাল বিসিডিআই-এর আধিকারিকদের এমন একটি প্রক্রিয়াজাত বাঁশের প্রস্তুত কাঁচামাল সরবরাহ ও সংযোজন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন, যেখানে কারিগররা সহজেই প্রক্রিয়াজাত বাঁশের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন এবং তা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করতে পারবেন। তিনি বলেন, এই ধরনের একটি কেন্দ্র স্থাপিত হলে কারিগরদের সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে এবং বাঁশজাত পণ্যের মূল্য সংযোজন ও উদ্ভাবনে আরও উৎসাহিত হবে।
তিনি বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী ও পণ্য তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপরও জোর দেন। রাজ্যপাল আরও উল্লেখ করেন যে, বাঁশের শিকড় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকৃতি ও শৈল্পিক সামগ্রী তৈরির একটি অনন্য কারুশিল্প ত্রিপুরায় প্রচলিত রয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পকে সংরক্ষণ, প্রচার এবং আরও উন্নত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন, যাতে এই শিল্প বৃহত্তর পরিচিতি লাভ করার পাশাপাশি স্থানীয় কারিগরদের জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। লোক ভবন থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।








