চিকিৎসার ফান্ডে স্বচ্ছতার দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হুমকির শিকার নারী, সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে জেলা শাসকের দ্বারস্থ সুস্মিতা নন্দী

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬: ছোট্ট শিশু মনশ্রীর চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত ক্রাউড ফান্ডিং ও তার বাবার ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পর চরম হুমকি ও হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সুস্মিতা নন্দী নামে এক নারী। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে জেলা শাসকের (DM) কাছে আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগকারী সুস্মিতা নন্দী জানান, অসুস্থ মনশ্রীর জন্য সাধারণ মানুষ ব্যাপক হারে আর্থিক সাহায্য (ক্রাউড ফান্ডিং) করেছেন। একজন বাবা হিসেবে মনশ্রীর চিকিৎসায় ধ্রুব চৌধুরী নিজে কী ভূমিকা রেখেছেন—সেই প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই ধ্রুব চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ মহল এবং জার্মানি থেকে তাঁর এক বন্ধুর তরফে তাঁকে ফোন করে পুলিশে পাঠানো এবং বাড়ি ঘেরাও করার হুমকি দেওয়া শুরু হয়।

পরবর্তীতে একাধিক ভুয়া (Fake) ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর সন্তান, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আপত্তিকর ও অশালীন প্রচার চালানো শুরু হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর সাথে মৌমিতা সূত্রধর নামে অপর এক নারীও অনুরূপভাবে সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পেশায় ব্যবসায়ী সুস্মিতা নন্দী বলেন, “আমরা চাই শিশু মনশ্রী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠুক। কিন্তু সাধারণ মানুষের দেওয়া ক্রাউড ফান্ডিংয়ের প্রতিটি টাকা যাতে শুধুমাত্র ওই শিশুর চিকিৎসার কাজেই ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” সমগ্র ঘটনার পেছনে কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মনশ্রীর চিকিৎসার ফান্ডে স্বচ্ছতার দাবি, জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন শুভানুধ্যায়ীদের।অসুস্থ শিশু মনশ্রীর চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত দান বা ‘ডোনেশন’-এর অর্থ ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও সঠিক হিসাবের দাবিতে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসকের (DM) কাছে আবেদন জানিয়েছেন দাতারা।

আবেদনকারীদের পক্ষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক নারী জানান, সাধারণ ত্রিপুরাবাসী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ ১ টাকা, ১০০ টাকা কিংবা ১০০০০ টাকা পর্যন্ত যে যা পেরেছেন মনশ্রীর চিকিৎসার জন্য দান করেছেন। তাদের সকলেরই একমাত্র লক্ষ্য মনশ্রী যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং সংগৃহীত সম্পূর্ণ অর্থ যেন কেবল তার চিকিৎসার খাতেই ব্যয় হয়।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা ফেসবুকে ব্যালেন্স চেক করে যেভাবে হিসাব দেখানো হচ্ছে, তা প্রকৃত হিসাবের সঠিক পদ্ধতি নয়। প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত মোট কত টাকা কালেকশন হয়েছে, তার সঠিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট প্রদান করা উচিত।

তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে এবং এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জেলা শাসকের হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন যাতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে, সেই দাবিই জানিয়েছেন তারা।

Leave a Comment