তিপ্রা ল্যান্ডের দাবিতে আই পি এফ টির পথসভা, আগরতলায় মিছিল

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬: ত্রিপুরা ল্যান্ডের দাবিতে সরব ইনডিজেনিয়াস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা বা আইপিএফটি। সংগঠনের ডাকে রবিবার আগরতলার মরা চৌমুহনী এলাকায় এক পথসভার আয়োজন করা হয়।

প্রতি বছরের মতো ২৩ আগস্ট দলটির প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় এনসি দেববর্মার স্মৃতি ও আদর্শকে স্মরণ করে রাজধানী আগরতলায় এক সুবিশাল র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে চলে আসা ‘তিপ্রাল্যান্ড দাবি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও হাজার হাজার সমর্থক অংশ নেন।

পথসভার আগে উত্তর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মরা চৌমুহনীতে আয়োজিত পথসভার মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় পথসভা। সভা থেকে ত্রিপুরা ল্যান্ডের দাবিতে জোরালো দাবি জানান আইপিএফটির নেতৃত্ব। বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় তাদের দাবি পূরণ করা প্রয়োজন।

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আইপিএফটির সভাপতি প্রেম কুমার রিয়াং, ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী তথা আইপিএফটি নেতা শুক্রাচরণ নোয়াতিয়া জানান, সংবিধানের ২ ও ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদকে (TTAADC) একটি পূর্ণাঙ্গ বা পৃথক রাজ্যে উন্নীত করাই দলের মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রে বিজেপি পরিচালিত সরকারের শরিক দল হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের আদর্শ ও মৌলিক রাজনৈতিক দাবি যে অপরিবর্তিত রয়েছে, সে কথা পরিষ্কার করে দেন তিনি।

আইপিএফটি নেতৃত্বের কথায়, “বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে থাকলেও উপজাতিদের অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষার সুরক্ষা এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমাদের পৃথক ‘তিপ্রাল্যান্ড’-এর দাবি অব্যাহত থাকবে। ভারত সরকারের কাছে এই সাংবিধানিক দাবি পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন জারি রয়েছে।”

এ দিনের র‍্যালিতে দলের সভাপতি প্রেম কুমার রিয়াং সহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন। উত্তর গেট এলাকা থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে ম্যারা চৌমুহনীতে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে আয়োজিত জনসভায় নেতারা দলের মূল বার্তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন। ত্রিপুরা ল্যান্ডের দাবিকে সামনে রেখে আইপিএফটির এই কর্মসূচিকে ঘিরে এদিন আগরতলায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী