প্রগতি ত্রিপুরা, ২২ আগস্ট, ২০২৬: বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়েও তা সরকারি খাতায় জমা না করার গুরুতর অভিযোগ উঠল তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (JE) বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।
প্রতারণার শিকার হয়েছেন ব্রহ্মছড়া এলাকার বাসিন্দা, পেশায় দিনমজুর খোকন দাস ও তাঁর পরিবার।
অভিযোগের বিস্তারিত ও ঘটনার পর্যায়ক্রম
টাকা প্রদান ও ভুয়া সংযোগ: খোকন দাসের স্ত্রী সবিতা মোদকের দাবি, প্রায় এক বছর আগে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের হাতে সরাসরি ৩,৬০০ টাকা তুলে দেন তাঁরা।
টাকা নেওয়ার পর বাড়িতে লাইন কেটে বিদ্যুৎ সংযোগও চালু করে দেওয়া হয়। বিল না আসায় সন্দেহ: দীর্ঘ এক বছর ধরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সত্ত্বেও কোনো বিল না আসায় পরিবারের মনে খটকা জাগে। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা এড়িয়ে যান।
দপ্তরে কাটল রহস্য: বাধ্য হয়ে তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের ডিভিশন-১ অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য—সরকারি নথিতে ওই সংযোগের কোনো অস্তিত্বই নেই!
লাইন বিচ্ছিন্ন ও অতিরিক্ত জরিমানা: দপ্তরের কর্মীরা বাড়ি গিয়ে সরাসরি লাইন কেটে দেন। অফিসিয়ালি বৈধ সংযোগ পেতে এক বছরের বিল বাবদ ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়, যা দিনমজুর পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে ৬,০০০ টাকা দিয়েসংযোগটি নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযুক্তের বিতর্কিত ভূমিকা ও হুমকি
পুরোনো ৩,৬০০ টাকার বিষয়ে বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।
উল্টে গ্রাহক কেন অফিসে অভিযোগ জানালেন, তা নিয়ে ধমক দেন। সরাসরি প্রশ্ন উঠছে—গ্রাহককে কোনো রসিদ না দিয়ে নেওয়া এই টাকা কোথায় গেল?
ধারাবাহিক দুর্নীতির অভিযোগ
এলাকাবাসীর দাবি, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
গ্রাহকদের হয়রানি, অনুপযুক্ত আচরণ এবং আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে এই সম্পর্কিত আরও বিস্ফোরক তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ্যে আনা হবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এখন দেখার, ধারাবাহিক এসব অভিযোগের পরও বিদ্যুৎ নিগমের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করে, নাকি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।








