উদয়পুর শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক!

প্রগতি ত্রিপুরা, ২১ আগস্ট, ২০২৬: ​বাড়ি কিংবা অফিস, সুযোগ পেলেই চোরের দল হানা দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও প্রতিটি ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে, কিছু ক্ষেত্রে চোরদের পাকড়াও করতে সক্ষম হলেও বহু ঘটনায় চোরের নাগাল পেতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। রাতের বেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত নাইট পেট্রোলিং করা হলেও কীভাবে চোরের দল একের পর এক চুরির ঘটনা সংঘটিত করছে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু তদন্ত নয়, চুরি রুখতে আরও সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন। এবার চোরের দল হানা দিল উদয়পুর গকুলপুর শাস্ত্রীয় সংঘ এলাকায়। জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা অম্লান ভৌমিক, পিতা মৃত অমলেন্দু ভৌমিকের বাড়িতে চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চলতি মাসের ১৯ তারিখ সন্ধ্যায় বাড়ির মালিক অম্লান ভৌমিক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাব্রুমে একটি শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান।

পরদিন অর্থাৎ ২০ তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়িতে ফিরে এসে দেখতে পান বাড়ির পিছনের দরজা খোলা অবস্থায় রয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরবর্তীতে একটি ঘরে থাকা আলমারি খুলে দেখা যায়, জামাকাপড় অগোছালো অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। খোঁজাখুঁজি করে বাড়ির মালিক জানতে পারেন, চোরের দল আলমারি থেকে নগদ প্রায় ১০ হাজার টাকা, প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং বেশ কিছু মূল্যবান বাসনপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।

ঘটনার পরপরই রাধাকিশোরপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ আধিকারিকরা বাড়ির বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখেন এবং চুরির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। এদিকে, বাড়ির মালিক অম্লান ভৌমিক অভিযোগ করে বলেন, গকুলপুর শাস্ত্রীয় সংঘ এলাকায় প্রায় প্রতিনিয়ত কোনও না কোনও বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে চলেছে। এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের কাছে তিনি দাবি জানান, দ্রুত তদন্ত করে চোরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হোক এবং আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

অন্যদিকে, পরপর চুরির ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশ প্রশাসনের গোয়েন্দা বিভাগের ভূমিকা নিয়েও। শহর কিংবা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কী ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা বিভাগের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে কিনা, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, গকুলপুরের এই চুরির ঘটনায় পুলিশ কত দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারে।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী