প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ আগস্ট, ২০২৬: ঝড়-বৃষ্টির রাতে আচমকা তীব্র বজ্রপাত। আর তার পরপরই বিকট শব্দে ধাউ ধাউ করে জ্বলে উঠল একটি বিশালাকার তালগাছ। কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল গাছটি। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে মেলাঘর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছালেও, পাড়ায় ঢোকার মতো ন্যূনতম রাস্তা না থাকায় দূর থেকেই দাঁড়িয়ে ছাই হতে দেখতে হলো সেই মর্মান্তিক দৃশ্য।
কোনোক্রমে বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেলেও, এই ঘটনা উসকে দিয়েছে এলাকার এক ভীতিকর ও চরম বাস্তবতাকে। ঘটনাটি ত্রিপুরা রাজ্যের মেলাঘর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের। স্থানীয়দের প্রশ্ন—আজ কেবল একটি তালগাছ পুড়েছে, কিন্তু আগামী দিনে যদি কোনো বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তবে কীভাবে রক্ষা পাবে এই অসহায় পরিবারগুলি? স্বাধীনতার সাড়ে সাত দশক পার হলেও মেলাঘর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি পরিবারের ভাগ্যে আজও জোটেনি একটি সঠিক চলাচলের পথ। বর্তমানে দেশজুড়ে ডিজিটাল বিপ্লব ও মেগা প্রজেক্টের নানা তোড়জোড় থাকলেও, এই এলাকার চিত্র একদম উল্টো।
পাড়ায় প্রবেশের একমাত্র ভরসা একটি অতীব সংকীর্ণ গলি। সামান্য বৃষ্টি হলেই যা হাঁটু জলে তলিয়ে যায়। সাধারণ চাকাযুক্ত যান দূরে থাক, কোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার মতো কোনো সুযোগ নেই সেখানে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনের নগ্ন অবহেলার ছবিটা আবারও সামনে এনে দিয়েছে। বজ্রপাতে তালগাছে আগুন লাগার পর আতঙ্কিত বাসিন্দারা খবর দিলে মেলাঘর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ছুটে আসে। কিন্তু অপ্রশস্ত গলির কারণে দুর্ঘটনাস্থলে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা কেবল দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
রাস্তা না থাকার এই যাতনা শুধু অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রামের সাথেও: কৃষকরা নিজেদের কষ্টার্জিত ফসল বা ধান কাঁধে নিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার পথ হেঁটে মূল সড়কে পৌঁছাতে বাধ্য হন। অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যেন এক জীবন-মরণ যুদ্ধের সমতুল্য। একটু বৃষ্টি নামলেই জলজটে ঘর থেকে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়ে বাসিন্দাদের। ভীতি ও ক্ষোভে ফুটতে থাকা এলাকাবাসীদের একটাই প্রশ্ন—আর কত দিন মিলবে কেবল ফাঁকা আশ্বাস? বড় কোনো জীবনহানি বা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার পরেই কি ঘুম ভাঙবে পৌরসভা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের? এই করুণ বাস্তবতার স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন মেলাঘরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।








