কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান, বিশ্বে মানবতার চর্চা যতদিন হবে ততদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবেন : উচ্চশিক্ষামন্ত্রী

প্রগতি ত্রিপুরা, ৮ আগস্ট, ২০২৬: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, সমাজচিন্তক, চিত্র শিল্পী এবং সর্বোপরি বিশ্ব মানবতার পূজারি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন। আজ মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন একথা বলেন। আজ ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। এ উপলক্ষ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু নেই। তিনি আমাদের মধ্যে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও জাতীয় চেতনায় এখনও বিরাজমান। তাঁর চিন্তা, আদর্শ, সৃষ্টি এখনও সমান প্রাসঙ্গিক। বিশ্বে মানবতার চর্চা যতদিন হবে ততদিন তিনি প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবেন।

উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, কবিগুরু এমন এক ভারতবর্ষ চেয়েছিলেন যেখানে সবাই মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবেন এবং সংস্কৃতিই হবে আমাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। ভারতবর্ষের জ্ঞান চিন্তাকে বিশ্বের মাঝে আদান প্রদান করাও ছিল তাঁর অন্যতম আদর্শ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশেও সচেষ্ট ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই চিন্তা ভাবনা নিয়েই বর্তমান ভারতবর্ষ বিকশিত ভারতবর্ষে উন্নীত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গভীর সম্পর্ক ছিল। ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ছিল আন্তরিক সম্পর্ক। তাঁর রচিত রাজর্ষি, বিসর্জন ইত্যাদি উপন্যাসে ত্রিপুরার ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।

এভাবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে ত্রিপুরাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না, নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা এবং প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হতে হবে। তবেই দেশ বা রাজ্য শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে আরও এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি সব ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে রয়েছে। কবিতা, নাটক, নৃত্যনাট্য, চিত্রাঙ্কন, অভিনয়, আবৃত্তি, সাহিত্য ইত্যাদির সর্বক্ষেত্রেই কবিগুরুর অবাধ বিচরণ ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিতে মানবতা ও স্বদেশ প্রেমের ভাবনা ফুটে উঠেছিল।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাহিত্যিক মিনাক্ষী ভট্টাচার্য বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন ছিল আলোর পথে এগিয়ে চলা। তিনি ছিলেন একজন মহান প্রকৃতিপ্রেমী। কবিগুরুর সৃষ্টির কোনও শেষ নেই। এছাড়াও তিনি তার ভাষণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, শিল্পচর্চা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য বলেন, কবিগুরু ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তাঁর জীবন ও কর্মদর্শন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সর্বোপরি তিনি ছিলেন দেশপ্রেম ও মানবতার পূজারি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীদের দ্বারা পরিবেশিত হয় রবীন্দ্র সঙ্গীত ও রবীন্দ্র নৃত্য।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী