প্রগতি ত্রিপুরা, ৮ আগস্ট, ২০২৬: হিন্দু সম্প্রদায় ও ব্রাহ্মণ সমাজকে নিয়ে অরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা সিপিএম পলিট ব্যুরোর সদস্য জীতেন্দ্র চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠলেন সনাতনী সমাজের মানুষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্য জুড়েই তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। এই পর পর সনাতন ধর্মের অবমাননা ও ধর্মবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়ায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) উদ্যোগে এক সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এদিন সোনামুড়া বাজার এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান পথ পরিক্রমা করে। র্যালিতে উপস্থিত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্ব ও সাধারণ সমর্থকরা সনাতন সংস্কৃতির ওপর যেকোনো আঘাতের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গর্জে ওঠার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে শহরের নেতাজি চৌমুহনীতে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বিরোধী দলনেতার বক্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক ও উরুচিকর’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দেন যে, আগামী দিনে জনসমক্ষে বা সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত না থাকলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে।
বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, “ভারতে এখন আর ঔরঙ্গজেব বা বাবরের রাজত্ব নেই; বরং ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ ও রানা প্রতাপের আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মকে ছোট করে কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে কমিউনিস্ট রাজনীতির দিন ভারতে শেষ হয়ে গেছে। স্বভাব পরিবর্তন না করলে রাজ্যের সচেতন মানুষ এদের রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিতাড়িত করবে।”
এদিনের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ত্রিপুরা প্রান্তের সভাপতি শচীন কলোই, প্রান্ত সেবা প্রধান উদয় নোয়াতিয়া, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশিষ্ট সংগঠক দুর্গাচরণ গোস্বামীসহ সনাতনী সমাজের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ।








