প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ জুলাই, ২০২৬: হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ত্রিপুরা জুটমিলের কর্মচারীদের বকেয়া বাবদ প্রায় ২২০ কোটি টাকা মিটিয়ে দিল রাজ্য সরকার। বুধবার আগরতলাস্থ প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই খবর জানান রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায়। একই সঙ্গে জুটমিলের অতীত পরিস্থিতি ও পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে রাজ্যে জুটমিল স্থাপন করা হয়েছিল, রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ফলে তা অর্জিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জুটমিলে শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল এবং মাত্রাতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। যেখানে মাত্র ৮০৭ জন কর্মী প্রয়োজন ছিল, সেখানে তৎকালীন সময়ে ২,২৫৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৯৯৬ সাল থেকে শ্রমিকদের প্রাপ্য বঞ্চনার বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল। ২০০৩ সালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। কিন্তু শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার পাশাপাশি ৬ শতাংশ সুদে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
অর্থমন্ত্রীর দাবি, তৎকালীন সরকার যদি হাইকোর্টের রায় মেনে নিত, তবে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মধ্যেই এই বকেয়া মেটানো সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং সুদের কারণে আজ রাজ্য সরকারের প্রায় ২২০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হলো। অর্থমন্ত্রীর মতে, বাম জমানার এই ভুল নীতি ও অনিয়মের দরুন সার্বিকভাবে রাজ্যের জনগণের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জুটমিলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জানান, কারখানা চত্বরের অকেজো যন্ত্রাংশগুলো নিলামের (অকশন) মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এই সুবিশাল জমিতে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে: আইটি পার্ক: প্রায় ১০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে একটি আধুনিক আইটি পার্ক, যা রাজ্যের প্রায় ২,০০০ শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার: যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি হবে একটি বিশেষ কেন্দ্র। মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল: সাধারণ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য গড়ে তোলা হবে এই হাসপাতাল। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে জুটমিল অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে উক্ত স্থানটিকে রাজ্যের প্রধান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কেন্দ্রে পরিণত করার ইঙ্গিত দিলেন অর্থমন্ত্রী।








