প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ জুলাই, ২০২৬: মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় মহিলা কমিশনের উদ্যোগে “She Serves” কর্মসূচি উদয়পুরের পঞ্চায়েত রাজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স হলে বুধবার সকালে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগদানে আগ্রহী তরুণীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ফলক উন্মোচন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্না দেববর্মা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের এবং জেলা পুলিশ সুপার অরিন্দম দাস। এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১৬ থেকে ২৩ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রী, তরুণী এবং সমাজকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা নারীদের সামাজিক ভূমিকা, নিরাপত্তা এবং নেতৃত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বক্তব্যে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রহাটকর বলেন, বর্তমান সমাজে নারীদের শুধু অংশগ্রহণ নয়, নেতৃত্বের ভূমিকায় এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। তিনি নারীদের অধিকার, সুরক্ষা এবং আত্মনির্ভরশীলতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, “SheServes” উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নারীকে সুরক্ষা, সেবা এবং নেতৃত্বের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মজীবনের জন্য তরুণীদের প্রস্তুত করতে বিশেষ অধিবেশন পরিচালনা করেন বিএসএফ-এর ডেপুটি কমান্ডার ডঃ রিনি বিষ্ণোই।
তাঁর উপস্থাপনায় প্রতিরক্ষা খাতে নারীদের সম্ভাবনা ও সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সচেতনতামূলক আলোচনা, ইন্টারেক্টিভ সেশন এবং প্রেরণামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা হয়। উপস্থিত তরুণীদের মধ্যে কর্মসূচিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিকদের জন্য কোনরূপ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছিল না, ফলে বিশৃঙ্খলার মধ্যেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধীনে আইসিডিএস সিডিপিও গোপা দে’র তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। সার্বিকভাবে “SheServes” কর্মসূচি নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা কুড়ালেও, আয়োজকদের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।








