প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ জুলাই, ২০২৬: উদয়পুরের মাতাবাড়ি ব্লক পঞ্চায়েত রিসোর্স সেন্টারের কনফারেন্স হলে বুধবার জাতীয় মহিলা কমিশনের উদ্যোগে “মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সুবিধাভোগী”-দের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারঅ্যাকশন প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচি উদয়পুরের মাতাবাড়ি আরডি ব্লকের অধীনে আয়োজিত হয় এবং এতে বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন শ্রীমতী বিজয়া রাহাতকর। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন ঝর্ণা দেববর্মা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের, মাতাবাড়ি আরডি ব্লকের বিডিও অরিজিৎ পাল এবং মাতাবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শিল্পী দাস। পাশাপাশি অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক, পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এই ইন্টারঅ্যাকশন প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে পর্যালোচনা করা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দৈনন্দিন সমস্যাবলি এবং সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার উপর বিশেষ জোর দেন।
তিনি বলেন, “মহিলাদের ক্ষমতায়নই সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এই ধরনের সরাসরি মতবিনিময়মূলক কর্মসূচি বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়। অংশগ্রহণকারী মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই ইন্টারঅ্যাকশন প্রোগ্রামটি মহিলাদের ক্ষমতায়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃতভাবে গ্রহণ করা হলে গ্রামীণ স্তরে মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং স্বনির্ভর ভারতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।








