প্রগতি ত্রিপুরা, ১৯ জুলাই, ২০২৬ : আগরতলা রেলস্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ এসকফ ও ফেয়ারডিল কফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি বড় মাদক পাচার চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
গত ২ জুলাই ২০২৬, সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ,ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই),আগরতলা, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ),আইপিএফ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে পশ্চিম ত্রিপুরার আমতলী থানাধীন আগরতলা রেলস্টেশন থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম সুব্রত দেব (৩৪)।তিনি খোয়াই জেলার কল্যাণপুর থানার বাথাখা এলাকার বাসিন্দা এবং আগরতলার বিকে এন্টারপ্রাইজ-এর ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানে তার কাছ থেকে আনুমানিক ৫৫,৬২৬ বোতল এসকফ ও ফেয়ারডিল কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী,উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ টাকা।বর্তমানে আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ডিআরআই-এর হেফাজতে রয়েছে।তদন্তকারী সূত্রের দাবি,এই চক্রের সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
তবে তদন্তের স্বার্থে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম প্রকাশ করেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলি।এদিকে,স্থানীয় মহলে কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে।অভিযোগে আগরতলা বর্ডার চক্করের মিঠুন ঘোষ,মেলাঘর পঞ্চমুখ এলাকার উত্তম চক্রবর্তী ও রাজু সাহা,বিশ্রামগঞ্জ এলাকার শ্যাম মানিক দেবনাথ এবং সূর্যমনি নগর বিধানসভা এলাকার এক শাসকদল-ঘনিষ্ঠ নেতার ছোট ভাইয়ের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
তারা এই নেশা সামগ্রী অন্য রাজ্য থেকে বিভিন্ন অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করে রাজ্যে নিয়ে এসে রাতারাতি সীমান্ত এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করেন বলে খবর।শাসকদলের নেতার ছোট ভাই বলে কথা।তাদের হাত আছে বলেই রেল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে রেলপথে ডাইরেক্ট রাজ্যে আসছে এই অবৈধ মাদকদ্রব্য।
এখন পর্যন্ত এই মামলায় একজনকে আটক করা হলেও,মূল চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ যদি সঠিক তদন্ত করে তাহলে আসল তথা তাদের নাম বেরিয়ে আসবেই।কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ কফ সিরাপ রাজ্যে আনা হচ্ছিল,কারা এর মূল পরিকল্পনাকারী এবং এর পেছনে আরও কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না,মিঠুন উত্তম রাজু শ্যাম মানিক তাদের আটক করলেই বেরিয়ে আসবে।
সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রকে শনাক্ত করাই তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রধান লক্ষ্য।








