প্রগতি ত্রিপুরা, ১৯ জুলাই, ২০২৬ : বাহুবলী রামভক্ত জগন্নাথের শিষ্যরাই চাই না জগন্নাথ দেবের মন্দিরের উন্নতি হোক জীতেন্দ্র ! রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা ৪০ সাব্রুম বিধানসভা কেন্দ্রের সিপি আই এম দলের বিধায়ক শ্রীযুক্ত জিতেন্দ্র চৌধুরী জনস্বার্থে নিজ বিধানসভা উন্নয়নের জন্য উনার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে রতন মনি এডিসি ভিলেজ এলাকায় বুদ্ধ মন্দির সংস্কার, বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত বরখোলা হরিচাঁদ ঠাকুর মন্দির সংস্কার এবং পূর্ব হরিণা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হরিণা বাজার সংলগ্ন জয় জগন্নাথ মন্দিরের সেট নির্মাণের জন্য অর্থ সাহায্য প্রদান করেন। গত ১২/০১/২০২৬ ইং তারিখে বিধায়ক জীতেন্দ্র চৌধুরী রতন মনি বুদ্ধ মন্দির ও বরখোলা হরিচাঁদ ঠাকুর মন্দিরের নিজে সশরীরে থেকে সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করে ছিলেন ঐদিন থেকে।
জানা গিয়েছে ঐদিন সবশেষে পূর্ব হরিণা জয় জগন্নাথ মন্দিরের শিলান্যাসের পলক উন্মোচন করতে আশার কথা ছিল বিধায়ক জীতেন্দ্র চৌধুরীর। কিন্তু মন্দির কমিটির কয়েকজন সদস্য নাকি বাধা সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ। ৪০ সাব্রুমের বিধায়ক শ্রীযুক্ত জীতেন্দ্র চৌধুরী উনার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে এই পূর্ব হরিণা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হরিণা বাজার সংলগ্ন জয় জগন্নাথ মন্দিরের সেট নির্মাণ করার জন্য ৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সাতচাঁদ গ্রাম উন্নয়ন দপ্তর থেকে এই নির্মাণ কাজের বরাত পেয়েছেন সাব্রুমের লিটন দে নামে এক ঠিকাদার। যার Work Onder No:- NO.F.5(326)-EE/RDD/STC/OAS/HRA/BEUP-40/2025-26. Total Amount Cost:- 8,38,000/- গত ১৬/০৭/২০২৬ ইং তারিখ বৃহস্পতিবারদিন তথা জয় জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রার দিনই বিধায়ক জীতেন্দ্র চৌধুরীর আদেশ অনুসারে সাব্রুম মহাকুমা শাসক সুমন রক্ষিত মহাশয় এই মন্দিরের বরাদ্দকৃত নির্মাণ কাজ বাতিল করে সাতচাঁদ গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরকে নোটিশ দেন।
নোটিশের ফাইল নাম্বার NO.F.11(2)SDM/SBM/BEUP-40/2023/4321. Date:-16/07/26. এত। রথ যাত্রার পরের দিন তথা গতকাল শুক্রবার দিন এই খবরটি পূর্ব হরিণা গ্রাম পঞ্চায়েতের জয় জগন্নাথ দেবের মন্দিরের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দনীয় ঝড় উঠতে শুরু করেছে। শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। আর এই বেপার নিয়ে জগন্নাথ মন্দিরের সম্পাদক সুদর্শন চক্রবর্তী জানান, মন্দির সেট নির্মাণ করার জন্য নাকি সাব্রুমের এলাকার বিধায়ক জীতেন্দ্র চৌধুরী উন্নয়ন তহবিল থেকে ৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল কিন্তুক সরকারি ভাবে কোন কাগজপত্র উনারা হাতে পায়নি। উনি আরো জানান, কে বিধায়কের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং সাতচাঁদ গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেছেন তাও উনি জানেন না বলে জানান।
তিনি আরো জানান, কার মদতে এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আর এই বেপার নিয়ে আমাদের মহাকুমা প্রতিনিধি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সাব্রুমের বিধায়ক শ্রীযুক্ত জীতেন্দ্র চৌধুরীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে উনি একান্তর সাক্ষাৎকার জানান উনার কাছে আবেদন আশার সাথে কিছুদিনের মধ্যেই ফান্ড রিলিজ করেন। টেন্ডারে ওয়ার্কঅর্ডার মূলে কন্টাকটারও ঠিক হয়েছিল। যেদিন নির্মাণ কাজটি শুরু করা হবে ঐ দপ্তরের আধিকারিকরা নির্মাণ কাজের স্থানে আগের দিন গেলে সেখানকার বাহুবলীরা বললো না এইখানে এইকাজ করা যাবে না। তার জন্য করা যায়নি এবং কমিটির লোকরাও ঐদিন ছিল। তিনি আরো জানান, ঐদিনের পর থেকে তিনি ছয় মাস অপেক্ষা করেছিল, উনার সাথে কেউ যোগাযোগ করে নাই। মন্দির কমিটি থেকে কিন্তু কেউই যোগাযোগ করল না। ওরা হিন্দু হয়ে জগন্নাথ দেবের মন্দির নিয়ে রাজনীতি করছে। জগন্নাথ দেবের মন্দির কমিটির শিষ্যরা নিজেরাই চাইনা মন্দিরের উন্নয়ন হোক। আমি টাকা দিয়েছি কিন্তু বাধা দেওয়ার ফলে এই কাজটি হল না। এতদিনে কাজটি শেষ হয়ে যেত। টাকাতো পর থাকতে পারে না সরকারি টাকা ছয় মাস অতিক্রম হয়েছে এর জন্য টাকা আবার ব্যাগ হয়ে গিয়েছে বলে জানান। আর এই নিয়ে সাব্রুম বিধানসভা জুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।








