রথযাত্রা সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে: রাজ্যপাল, রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক: মুখ্যমন্ত্রী

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৬ জুলাই , ২০২৬: রথযাত্রা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির এক অনন্য উৎসব। এই উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য হলো এর সর্বজনীনতা ও সাম্যের বার্তা। তাই রথের দড়ি টানার সময় কোনো সামাজিক ভেদাভেদ থাকে না। আজ পূর্বাশা প্রাঙ্গনে ইসকন আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডিড্ড নান্নু একথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।

রাজ্যপাল প্রভু জগন্নাথদেবের কাছে ত্রিপুরাবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী সকলের পক্ষে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে ভগবানের দর্শন করা সম্ভব হয় না। তাই প্রভু জগন্নাথদেব নিজেই রথে আরোহণ করে ভক্তদের মাঝে উপস্থিত হন, যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষ ধনী-দরিদ্র, জাত-পাত নির্বিশেষে তাঁর দর্শনের সুযোগ লাভ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহ্য আমাদের শিক্ষা দেয় যে ঈশ্বরের কাছে সকল মানুষ সমান এবং মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতিই সমাজের প্রকৃত শক্তি।

রাজ্যপাল আরো বলেন, রথযাত্রার সময় সকলের মনোযোগ ও ভক্তি প্রভু জগন্নাথদেবের প্রতি নিবদ্ধ থাকে, যা এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। রথযাত্রা সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই সংস্কৃতির সার্বজনীন আবেদন ও মানবকল্যাণমূলক দর্শনেরই প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। এই উৎসব আমাদের জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা শেখায়। তিনি বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের উৎসবকে সম্মান ও সমান গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং আগামী দিনেও করে যাবে।

কারণ এই উৎসবগুলি সমাজে শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের মঞ্চেও ঐক্য সৃষ্টি, পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে থাকে। তিনি ভগবান শ্রী জগন্নাথের কাছে ত্রিপুরা রাজ্য সহ সমগ্র দেশ তথা মানব জাতির উন্নতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যও ভগবান শ্রী জগন্নাথ দেবের কাছে রাজ্যবাসীর সকলের সুখ, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে বলেন, রথযাত্রা আমাদের আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করার পাশাপাশি মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও সেবাধর্মের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে। তিনি বলেন, ইসকন দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কর্মকান্ডের সাথে মানবসেবা, যুবসমাজের নেতিক বিকাশে ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এজন্য তিনি তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, বিশিষ্ট সমাজসেবী পাপিয়া দত্ত ও টিআইডিসি’র চেয়ারম্যান নবাদল বণিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা এসকনের সহ-সভাপতি শ্রীধাম গোবিন্দ দাস প্রভু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল সহ অন্যান্য অতিথিগণ রথে থাকা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পূজার্চনা করে রথযাত্রার সূচনা করেন।

Leave a Comment

রথযাত্রা সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে: রাজ্যপাল, রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক: মুখ্যমন্ত্রী